যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ তুষারঝড় আঘাত হানার আশঙ্কায় নিউইয়র্ক সিটির পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) তিনি এই নির্দেশ দেন। এটি রাত ৯টা থেকে কার্যকর হয়ে সোমবার দুপুর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এই সময়ে জরুরি সেবা ছাড়া সাধারণ সব ধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ওয়াশিংটন ডিসি থেকে মেইন অঙ্গরাজ্য পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ মানুষ এই তীব্র তুষারঝড়ের কবলে পড়তে যাচ্ছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, মেরিল্যান্ড থেকে দক্ষিণ-পূর্ব নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত তুষারঝড়ের কারণে দৃষ্টিসীমা শূন্যে নেমে আসতে পারে। যা যাতায়াতকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে। ঝড়ের তীব্রতা যখন চরমে পৌঁছাবে, তখন প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২ থেকে ৩ ইঞ্চি তুষারপাত হতে পারে। কোনো কোনো এলাকায় ২ ফুট (৬০ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত তুষার জমার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রবল বাতাস ও ভারি তুষারপাতের ফলে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।
মেয়র মামদানি জানিয়েছেন, গত এক দশকের মধ্যে নিউইয়র্ক এমন বড় আকারের তুষারঝড়ের মুখোমুখি হয়নি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সড়ক, মহাসড়ক ও সেতুগুলো বন্ধ রাখা হবে। নাগরিকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে তারা অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলেন।
নিউইয়র্কের পাশাপাশি নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যেও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন গভর্নর মিকি শেরিল। অন্যদিকে, বোস্টনের মেয়র মিশেল উ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সব স্কুল ও পৌর ভবন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল এক সংবাদ সম্মেলনে নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এখনও আসেনি।’ তিনি সবাইকে অতি দ্রুত ওষুধ, গ্রোসারি ও প্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করে বাড়িতে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছেন।
উপকূলীয় এলাকাগুলোতে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কার কথা জানিয়ে ডেলওয়্যার থেকে কেপ কড পর্যন্ত বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই এ অঞ্চলে অন্য একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে শতাধিক প্রাণহানির রেশ না কাটতেই এই নতুন তুষারঝড় জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
