বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইসরায়েল সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি, ভাষণ দেবেন নেসেটে

ইসরায়েল সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি, ভাষণ দেবেন নেসেটে

ইসরায়েল সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি, ভাষণ দেবেন নেসেটে

দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েল পৌঁছাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত আট বছরের মধ্যে এটি তার দ্বিতীয় ইসরায়েল সফর।

এই সফরে তিনি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে একটি বিশেষ ভাষণ দেবেন, যা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে মোদিকে তার ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করে এই সফরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে মোদির ঐতিহাসিক সফরের পর দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি, কৃষি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

মোদির এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের অংশীদারিত্ব বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইসরায়েল বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল ভারত। ইসরায়েলের মোট অস্ত্র রপ্তানির ৩৪ শতাংশই কিনেছে ভারত, যেখানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রয়ের পরিমাণ ছিল ১৩ শতাংশ। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে ইসরায়েলের ওপর ভারতের এই বিশাল নির্ভরতা দুই দেশের কৌশলগত জোটকে আরও গভীর করেছে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোদির এই সফরের মাধ্যমে ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বহুমুখী সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে। নিরাপত্তা ছাড়াও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত প্রযুক্তির আদান-প্রদান নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার কথা রয়েছে। তবে মোদির এই সফরকে ঘিরে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

দেশটির একটি বড় অংশ এই জোটকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য মনে করলেও, অন্য একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করছেন।

ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যকার এই বিশেষ সম্পর্ক কেবল অস্ত্রের লেনদেনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্বের অংশ। ২০১৮ সালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভারত সফরের সময় নেওয়া বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগগুলো এই সফরে নতুন গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন নেসেটে মোদির দেওয়া ভাষণের দিকে, যেখানে তিনি ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও বিশ্ব কূটনীতিতে ভারতের অবস্থান শক্ত করতে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।