যশোরে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা তিনজন সফল উদ্যোক্তাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে শহরের ভৈরব নদের পাড়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রথম আলো যশোর বন্ধুসভা।
সম্মাননাপ্রাপ্ত উদ্যোক্তারা হলেন, কাগজের কলম তৈরির উদ্যোক্তা লোন অফিসপাড়া এলাকার নাছিমা আক্তার, কাঠশিল্পের উদ্যোক্তা সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের সুবোধ কুমার রায় এবং কামারশালায় লোহাজাত দা-বটি-কাঁচি তৈরির উদ্যোক্তা বারান্দি কদমতলা এলাকার তপন কর্মকার।
বিকেল পাঁচটায় বাউল গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান? শুরু হয়। বাউলীয়া সংঘ যশোরের শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। পরে শুরু হয় গুণীজন সম্মাননা পর্ব, যেখানে অতিথিরা সম্মাননাপ্রাপ্তদের গলায় উত্তরীয় পরিয়ে দেন এবং হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোরের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন, প্রথম আলোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করে উদ্যোক্তা তপন কর্মকার বলেন, “৪০ বছর ধরে লোহা পিটিয়ে দা, বটি, কাঁচি তৈরি করছি। প্রান্তিক এই পেশার মানুষদের খুব একটা মূল্যায়ন করা হয় না। আজকের এই সম্মান আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।"
অন্যদিকে নাছিমা আক্তার বলেন, “ঢাকায় সম্মাননা পেলেও নিজের জেলায় এতদিন স্বীকৃতি পাইনি। আজকের এই সম্মান আমার দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর করেছে।”
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন বন্ধুসভার সভাপতি লাকি রানী কাপুরিয়া। সাধারণ সম্পাদক রাইয়াদ ফেরদৌসও বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দীপান্বিতা সিংহ রায়।
শেষে বাউল গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। এ সময় দর্শক-শ্রোতাদের মাঝে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খাবার মুড়ি, মুড়কি, বাতাসা, খই, নকুলদানা ও কদমা পরিবেশন করা হয়।
স্টাফ রিপোর্টারঃ কল্যান রায় জয়ন্ত