প্রেশার কুকার' সিনেমার চিত্রনাট্যে মেহেদী হাসান মুন যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই আলাদাভাবে প্রশংসার দাবি রাখে। চারটি ভিন্ন গল্পের সুতোকে তিনি এক সুনিপুণ দক্ষতায় একটি বিন্দুতে মিলিয়েছেন। হাইপারলিংক স্টোরিটেলিংয়ের এই জটিল বুননটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে প্রতিটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা একে অপরের ওপর প্রভাব ফেলে এবং গল্পের পরতগুলো ধীরে ধীরে দর্শকদের সামনে উন্মোচিত হয়।
বিশেষ করে নারী, ধর্ম এবং সমাজের যে বাস্তব ছবি তিনি গল্পের ভাঁজে ভাঁজে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা বেশ সাহসের পরিচয় দেয়। ধর্মীয় গোঁড়ামি কিংবা সামাজিক শৃঙ্খল কীভাবে একজন মানুষের জীবনকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে, সেই সূক্ষ্ম দিকগুলো তার সংলাপে দারুণভাবে উঠে এসেছে।
এই লেখনীর জোর এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তিন ঘণ্টা দীর্ঘ সিনেমাটি দেখার সময় এক মুহূর্তের জন্যও আমার বোর লাগেনি। মেদহীন চিত্রনাট্যের পাশাপাশি তার তীক্ষ্ণ সংলাপগুলো প্রতিটি চরিত্রকে পর্দার ভেতরে বাস্তব ও জীবন্ত করে তুলেছে। চিত্রনাট্যের এই শক্তিশালী কাঠামো তৈরিতে কো-রাইটার হিসেবে সিয়াম শামস তুষ্ট এবং রায়হান রাফীও দারুণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।
অভিনয়ের জৌলুস এবং মেকিংয়ের চাকচিক্য তো আছেই, তবে এই সিনেমার মূল বুনটটি দাঁড়িয়ে আছে রাইটারদের তৈরি করা সেই শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তির ওপর। পর্দার আড়ালের এই কারিগরদের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া এখন সময়ের দাবি।
মেহেদী হাসান মুন এর আগে 'জংলী' সিনেমার রাইটার হিসেবেও নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন এবং সেখানেও তিনি দারুণ সফল ছিলেন। জংলী থেকে প্রেশার কুকার—একই সাথে আলাদা আলাদা স্টোরিলাইন সামলানো এবং সেগুলোকে একটির সাথে অন্যটি কানেক্ট করার এই ধারাবাহিক দক্ষতা তাকে একজন মেধাবী লেখক হিসেবে নতুনভাবে চিনিয়েছে। উনার এই ধারাবাহিক সফলতা বজায় থাকুক এবং আমাদের ইন্ডাস্ট্রি যেন উনার মতো মেধাবী লেখককে কোনোভাবেই হারিয়ে যেতে না দেয়। আমরা চাই এমন ক্ষুরধার লেখনী বারবার সেলুলয়েডের পর্দায় ফিরে আসুক।
