বাংলাদেশের পপ সঙ্গীত অঙ্গনে নব্বই দশকে যে ক’জন শিল্পী নতুন ধারার সুরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন, মেহরীন মাহমুদ তাদের অন্যতম। শুধু গানের কণ্ঠেই নয়, তার ফ্যাশন সেন্স ও ব্যক্তিত্বেও রয়েছে আলাদা আবেদন। ছিমছাম ওয়েস্টার্ন পোশাক ও নিজস্ব স্টাইল তাকে এনে দিয়েছে ভিন্ন পরিচিতি।
মেহরীন ভিকারুননিসা নূন স্কুল, হলি ক্রস কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশে সঙ্গীত, গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত।
১৯৯৪ সালে পেশাগত জীবনে যাত্রা শুরু করেন এবং ২০০০ সালে প্রকাশ করেন নিজের প্রথম একক অ্যালবাম ‘আনারি’, যা বিপুল জনপ্রিয়তা পায়।
এরপর তিনি উপহার দেন একাধিক জনপ্রিয় গান, টিভি প্রোগ্রাম ও স্টেজ পারফরম্যান্স।
২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ উপলক্ষে তার কণ্ঠে গাওয়া উৎসবমুখর গান “কাপ কিন্তু একটাই” গোটা বাংলাদেশে ক্রিকেট–উন্মাদনায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করে।
২০১২ সালে ছিলেন বাংলাদেশ আইডল সিজন–১ এর সম্মানিত বিচারক।
১৯৯২–২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে বার্তাপ্রদানকারী হিসেবে কাজ করেছেন।
২০২৩ সালের জুলাই মাসে ভারতের কলকাতায় ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস–এর আয়োজনে তিনি পান “বনগোনারী সম্মাননা”।
এরপর আগস্ট মাসে *ইস্ট বেঙ্গল এফসি–এর ১০৪ তম বার্ষিকী উপলক্ষে “অটোজন শ্রুতি সম্মাননা”–য় ভূষিত হন।
পুরস্কারটি তুলে দেন পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে গানে, উপস্থাপনায় ও গণমাধ্যমে মেহরীন মাহমুদ তাঁর জায়গা ধরে রেখেছেন অটল সম্মান ও ভালোবাসায়।
তাঁর গানে আছে স্বতঃস্ফূর্ততা, মাধুর্য ও এক অনন্য আনন্দের ছোঁয়া, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
বাংলা পপ গানের উজ্জ্বল নক্ষত্র মেহরীন মাহমুদকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। তাঁর সুরের যাত্রা আরও বর্ণিল হোক, গানে গানে ছড়িয়ে পড়ুক ভালোবাসা ও আনন্দের আলো।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা