আসল নাম ইন্দিরা চট্টোপাধ্যায়। জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬শে এপ্রিল, কলকাতায়। মৌসুমির আদিবাড়ি বাংলাদেশের বিক্রমপুরে(বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ)। বাবা শ্রীযুক্ত প্রাণতোষ চট্টোপাধ্যায়, মা শ্রীমতী বিভা চট্টোপাধ্যায়। সেনা কর্মকর্তা বাবার চাকরিসূত্রে কলকাতায় জন্ম হলেও তার হৃদয়ে ছিল বাংলার মাটি ও সংস্কৃতির টান।
মৌসুমিরা তিন ভাইবোন। দিদি মন্দিরা, আর দিদি নামের সঙ্গে মিলিয়ে মৌসুমির আসল নাম রাখা হয় ইন্দিরা। ইন্দিরা থেকে এই ইন্দু।
আত্মীয়স্বজনের কাছে তিনি ইন্দু নামেই বেশী পরিচিত।
জন্মেছিলেন শিশুমঙ্গল অর্থাৎ রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠানে। ঠাকুমা নাম রেখেছিলেন ইন্দিরা। একদম ছোটবেলায় মৌসুমী পড়েছিলেন একটা কিন্ডারগার্টেন স্কুলে। এরপর টালীগঞ্জে নৃপেন্দ্রনাথ গার্লস হাইস্কুলে পড়েছেন। তারপর মৌসুমীরা কয়েক বছর বেলেঘাটায় ছিলেন। বেলেঘাটা থাকার সময় ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশন থেকে প্রাইভেটে পরীক্ষা দেন মৌসুমী। ক্লাস টেনে পড়তে পড়তেই বিয়ে হয়ে যায়। খুব অল্প বয়সেই বিয়ে হয় বিখ্যাত সংগীতশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পুত্র জয়ন্তের সঙ্গে। দুই কন্যা পায়েল ও মেঘাকে নিয়ে গড়ে ওঠে সংসার।
বিয়ের পরদিন যখন স্বামীর ঘর করতে মুম্বাই যান, সেই সময় হিন্দি ছবির জগৎ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বড় বড় নায়িকা। তাঁদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতায় নেমে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ক্রমশ ওপরে ওঠা সহজ কথা নয়। আর সেই কঠিন কাজটাই কলিজার জোরে সফল করতে পেরেছেন বঙ্গবাসীর আদরের মেয়ে মৌসুমী। তাঁর গজদাঁতের সু-মধুর হাসিতে একদা মাত হয়েছে দর্শককুল। উপভোগ করেছেন অভিনয়ের চঞ্চলতা কিংবা শান্ত রূপ।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে তরুণ মজুমদার পরিচালিত বাংলা ছবি “বালিকা বধু” দিয়ে অভিনয় জগতে প্রবেশ, আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এরপর শক্তি সামন্ত পরিচালিত “অনুরাগ” (১৯৭২) সিনেমায় এক অন্ধ মেয়ের চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে পান ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার।
বলিউডে দীর্ঘ এক যুগ তিনি ছিলেন অন্যতম জনপ্রিয় ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রীদের একজন। রাজেশ খান্না, অমিতাভ বচ্চন, শশী কাপুর, সঞ্জীব কুমার, বিনোদ মেহ্রা, জিতেন্দ্র সহ তৎকালীন সুপারস্টারদের বিপরীতে অসংখ্য হিট ছবি উপহার দিয়েছেন।
বিশেষ করে “রুটি কাপড়া আওর মাকান” ছবিতে তাঁর চরিত্রে অভিনয় আজও দর্শকদের হৃদয়ে অমলিন।
বিনোদ মেহ্রার সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল দারুণ জনপ্রিয়—“আস পার”, “জ্যোতি বানেঝালওয়া”, “রাফতার” সহ বহু সিনেমায় এই জুটি ছিল হিট।
বাংলা চলচ্চিত্রেও তিনি ছিলেন সমান জনপ্রিয়—“পরিণীতা”, “আনন্দ আশ্রম”, “ওগো বধূ সুন্দরী”, “কড়ি দিয়ে কিনলাম” প্রভৃতি ছবিতে প্রধান চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি ছিল অনবদ্য। পরবর্তী সময়ে চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবেও “গয়নার বাক্স”-এর পিসিমার ভূত রূপে তিনি আজকের প্রজন্মের কাছেও স্মরণীয় হয়ে আছেন।
২০০৪ সালে রাজনীতিতেও পা রাখেন এই সাহসী ও বহুমাত্রিক অভিনেত্রী।
আজ তাঁর জন্মদিনে, এই অনন্য অভিনেত্রীর প্রতি রইল এন্টার টিভির পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভকামনা।
শুভ জন্মদিন মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়!
আপনার মতো শিল্পী যুগে যুগে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন আমাদের সবার জন্য।