বাজনার তালে তালে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে এক অভূতপূর্ব ও রাজকীয় পরিবেশে বিদায় জানানো হলো নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার দক্ষিণ সুন্দরখাতা পারঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ মোহসীন আলমকে। সুদীর্ঘ কর্মজীবনের সমাপ্তি টেনে আজ সোমবার (৪ মে) অবসরে গেলেন এই গুণী শিক্ষক। আর তার এই প্রস্থানকে স্মরণীয় করে রাখতে সাবেক শিক্ষার্থীরা আয়োজন করে এক বিরল বিদায় সংবর্ধনার।
সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের আমেজ। সাধারণত বিয়ের অনুষ্ঠানে ঘোড়ার গাড়ি বা বাজনা পার্টির প্রচলন থাকলেও, একজন শিক্ষকের বিদায়লগ্নে এমন আয়োজন এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সাবেক শিক্ষার্থীরা প্রিয় শিক্ষককে রাজকীয় সম্মান জানাতে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়ি এবং একটি পেশাদার বাজনা পার্টির ব্যবস্থা করেন।
বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় সাবেক শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করেন। এসময় বক্তারা বলেন, “স্যার কেবল আমাদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের জীবন গড়ার কারিগর। আজ তিনি বিদ্যালয় থেকে বিদায় নিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু আমাদের হৃদয়ে তার আদর্শ চিরকাল অম্লান থাকবে।” আলোচনা সভা শেষে সাবেক শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে স্যারকে সম্মাননা স্মারক, মানপত্র ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে বিদায় বেলায়। বাদ্যযন্ত্রের সুর আর শিক্ষার্থীদের পুষ্পবৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রিয় শিক্ষক মোহসীন আলমকে ঘোড়ার গাড়িতে তোলা হয়। বাজনার তালে তালে পুরো গ্রাম প্রদক্ষিণ করে তাকে তার নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা হাত নেড়ে প্রিয় এই মানুষটিকে বিদায় জানান।
শিক্ষার্থীদের এমন ভালোবাসা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মোঃ মোহসীন আলম। তিনি বলেন, “শিক্ষক হিসেবে এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমার ছাত্ররা আমাকে যে সম্মান দেখালো, তা আমি কোনোদিন ভুলবো না। আমি তাদের সবার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।”
বর্তমান সময়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের যখন নানা টানাপোড়েন দেখা যায়, তখন ডিমলার এই আয়োজন সমাজের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা বয়ে এনেছে। প্রিয় শিক্ষকের প্রতি এমন রাজকীয় সম্মান প্রদর্শন গুরু-ভক্তির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
এ আর বাদশা
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
