ঢাকায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে যশোর কোতয়ালী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে গাড়ি আটকে রেখে অবৈধভাবে হেফাজতে রাখার অভিযোগ তুলেছেন মাগুরার বাসিন্দা হীরা খাতুন। তবে অভিযোগটি ‘ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ দাবি করে পাল্টা ব্যাখ্যা দিয়েছে যশোর জেলা পুলিশ।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হীরা খাতুন (৩৮) মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের মাগুরা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তার স্বামী আলী হাসানের বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশ সূত্র জানান, গত ২৭ মার্চ রাতে এক ব্যক্তি যশোর কোতয়ালী থানায় ফোন করে জানান, থানার বিপরীত পাশে রিচম্যান পোশাকের শোরুমের সামনে একটি রেড ওয়াইন রঙের টয়োটা সিএইচআর হাইব্রিড গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-২১-৪১১৩) দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। গাড়িটির চালক বা মালিককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
খবর পেয়ে কোতয়ালী থানার একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে জিডিমূলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে গাড়িটি বেওয়ারিশ হিসেবে জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।
পরবর্তীতে হীরা খাতুন থানায় এসে গাড়িটির মালিকানা দাবি করেন। এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করে আদালতের মাধ্যমে গাড়ি হস্তান্তরের আদেশ নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনা পেলে আইনানুগভাবে গাড়ি হস্তান্তর করা হবে বলেও জানানো হয়।
জেলা পুলিশের দাবি, এখন পর্যন্ত হীরা খাতুন আদালতে গাড়ির মালিকানার বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করে কোনো আদেশ সংগ্রহ করেননি। ফলে থানায় গাড়ি অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
এ বিষয়ে যশোর জেলা পুলিশ জানিয়েছেন, সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
কল্যান রায় জয়ন্ত
