চৌদ্দগ্রামের একদল স্বপ্নবান ও মানবিক তরুণের হাত ধরে গড়ে উঠেছে “হিউম্যানিটি অর্গানাইজেশন অফ চৌদ্দগ্রাম (HOC)”। ২০২০ সালের ২৫ জুলাই প্রতিষ্ঠিত এই অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি শুরু থেকেই আর্তমানবতার সেবা, সামাজিক উন্নয়ন এবং যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
“সেবা ও মমতায় গড়বো মানবিক সমাজ”—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে সংগঠনটির সদস্যরা চৌদ্দগ্রামজুড়ে নীরবে মানবিক কাজ পরিচালনা করছেন। রক্তদান থেকে শুরু করে খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা, পরিবেশ রক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে সংগঠনটি।
রক্তদান ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় নির্ভরতার নাম
মানুষের জীবন বাঁচাতে রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরে HOC নিয়মিত রক্তদাতা সংগ্রহ ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মুমূর্ষু রোগীর প্রয়োজনে দ্রুত রক্তদাতার ব্যবস্থা করাসহ সংগঠনটি জরুরি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও নেবুলাইজার সেবাও প্রদান করে থাকে।
গর্ভবতী মা ও সিজারিয়ান রোগীদের জন্য হাসপাতালের তথ্য, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রক্তদাতার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা। এছাড়া চলাচলে অক্ষম অসহায় মানুষের মাঝে বিনামূল্যে হুইল চেয়ার বিতরণও তাদের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর একটি।
অসহায় মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা
রমজান মাসে এতিমখানা ও মাদরাসায় ইফতার আয়োজন, খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং ছিন্নমূল মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়ার মতো কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করে HOC।
দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন হিফজখানা ও মাদরাসায় কুরআন মাজিদ ও হাদিসের কিতাব বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি কিশোর ও যুবকদের নামাজ ও নৈতিকতা চর্চায় উৎসাহিত করতে বিশেষ পুরস্কার প্রদানও করে সংগঠনটি। ঈদ ও কুরবানির সময় অসহায় পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
শিক্ষা ও শিশুবান্ধব কার্যক্রম
সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষাবান্ধব সমাজ গঠনে কাজ করছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়।
দুর্যোগে সাহসী ভলান্টিয়ার দল
শীত মৌসুমে অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল ও গরম কাপড় বিতরণ ছাড়াও বন্যা, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে HOC। জরুরি পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবীরা সরাসরি উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় অংশ নিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
খেলাধুলা ও সচেতনতায় ইতিবাচক পরিবর্তন
যুবসমাজকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করে সংগঠনটি। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সেমিনারের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সচেতন সমাজ গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
সংগঠনটির সদস্যদের বিশ্বাস, সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তরুণদের মানবিক উদ্যোগ। সেই বিশ্বাস থেকেই তারা চৌদ্দগ্রামকে একটি মানবিক, আদর্শ ও সহমর্মিতাপূর্ণ উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছে।
মানবতার কল্যাণে কাজ করা এই সংগঠনটি আজ শুধু একটি স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং অসহায় মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছে। চৌদ্দগ্রামের মানুষের ভাষায়—বিপদে পাশে দাঁড়ানোর আরেক নাম এখন HOC।
(মোশারফ হোসেন, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি)
