গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজ ও দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এতে সদ্য ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক, বই, গাছসহ বিভিন্ন উপকরণ প্রদান করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের অন্যতম সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি মো. মুজাহিদ ফয়সাল।
উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. শাহিন সরকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু, সেক্রেটারি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক মো. সামিউল ইসলাম, রুয়েট শিবির সভাপতি মো. তানজিমুল ইসলাম, রংপুর মহানগর ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ শাওন এবং গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. ফাহিম মণ্ডল।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, সুন্দরগঞ্জ পূর্ব সাংগঠনিক থানা শাখার সভাপতি মো. জিসান রাকিব এবং সুন্দরগঞ্জ পৌর সাংগঠনিক থানা শাখার সভাপতি মো. সুরুজ মিয়া প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শিক্ষাই জাতির মূল শক্তি। শিক্ষার মাধ্যমেই একটি জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছায়। তারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরা শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে না, বরং সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষা, নৈতিকতা ও আদর্শিক মূল্যবোধে গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একজন শিক্ষার্থী যদি সৎ, দক্ষ ও আদর্শবান হয়ে গড়ে ওঠে, তবে সে ভবিষ্যতে দেশকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রম, মেধা বিকাশমূলক আয়োজন, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তারা বলেন, কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জ্ঞান অর্জনকে শুধু পড়াশোনা নয়, বরং একটি ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই বিশ্বাস থেকেই ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও আদর্শিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থী যদি সঠিক শিক্ষা, চরিত্র ও নৈতিকতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে, তাহলে সে শুধু নিজের জীবনই নয়, বরং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে আলোকিত করতে পারে। সেই লক্ষ্যেই ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বগুণ বৃদ্ধি এবং ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সংবর্ধিত শিক্ষার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে কাজ করে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করার আগ্রহ বাড়ায়।
ভবিষ্যতেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি