যখন আমরা এই হেমায়েতপুর ফুট ওভার ব্রিজ দুর্ঘটনার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখবো, প্রাণহানি হবে, তখন হয়তো ভাইরাল টপিকের মতো আহাজারি করবো, হাহাকার করবো— তবে সময় থাকতে মেরামতের দিকে কেউ নজর দিচ্ছে না।
সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডের ফুট ওভার ব্রিজটির জরাজীর্ণ দশা নিয়ে চরম আক্ষেপ আর ক্ষোভের সাথে কথাগুলো বলছিলেন ডাক্তার সামিন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, 'এই ফুট ওভার ব্রিজ দিয়ে সড়ক পারাপার হতে গেলে আপনাকে ভিন্ন এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা দেবে। ব্রিজে ওঠার শুরুতেই আপনাকে হতে হবে চরম সাবধান। সিঁড়ির জীর্ণ দশা আর ভাঙা ধাপগুলো দেখে মনে হতে পারে আপনি কোনো সারভাইভাল গেমসে নেমেছেন। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে এটি।'
ঢাকার অদূরে সাভারের ব্যস্ততম হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রতিদিন পার হন হাজারো মানুষ। আর সেই পারাপারের একমাত্র ভরসা—এই ফুট ওভার ব্রিজটি। তবে ব্রিজে পা রাখলেই যেন বদলে যায় বাস্তবতা। মনে হয়, কোনো ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন পথচারীরা। ভাঙাচোরা সিঁড়ি, জরাজীর্ণ কাঠামোর এই ব্রিজের মাঝপথে হাঁটতে গেলেই অনুভূত হয় তীব্র কম্পন। নিচে তাকালে দেখা যায়, ব্রিজের অনেক অংশ ইতিমধ্যে খসে পড়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, প্রাণ হাতে করেই এই মরণফাঁদ পার হতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
হেমায়েতপুর একেএইচ গার্মেন্টসে লাইনম্যান হিসেবে দায়িত্বরত রতন শেখ নিয়মিত সড়ক পারাপার হন এই ব্রিজটি দিয়ে। তিনি জানান, কিছুদিন আগে এই ব্রিজের নিচের লোহার প্লেট ভেঙে পড়েছিল। ঝালাই দিয়ে তা কোনো মতে মেরামত করা হয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিনে এই ব্রিজটিতে মানুষের অনেক বেশি চাপ থাকে, যেকোনো মুহূর্তে এখানে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ঢাকা থেকে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে এই ব্রিজে চরম আতঙ্কে পড়েন পথচারী রোকসানা পারভিন। তিনি বলেন, ফুট ওভার ব্রিজ দিয়ে যখন উঠছিলাম তখনই বুঝছিলাম ব্রিজটাতে ঝামেলা রয়েছে, কাঁপাকাঁপি করছিলো পুরো কাঠামো। এটা অত্যন্ত হাই-রিস্কের একটা জায়গা। স্পষ্ট দেখলাম কিছু অংশ খসে খসে যাচ্ছে।
