জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) "জুলাই পদযাত্রা ২০২৬" উপলক্ষে সিলেট কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার থানা বাজার পয়েন্টে অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মূখ্য সমন্বয় নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী।
জুলাই পদযাত্রায় অংশ নিয়ে ডাঃ মাহমুদা মিতু বলেন, বিএনপি হবিগঞ্জে আমাদের উপর হামলা চালিয়ে আমাদের ছোট এক ভাইয়ের চোখ নষ্ট করে দিয়েছে। তিনি বলেন ভালো কাজের প্রতিযোগিতা হোক রাজনৈতিক মাঠে। হামলা চালিয়ে আবার আমাদের উপর মামলা ও করা হয়েছে। যা অতি দুঃখজনক।
দক্ষিনাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, আমরা যখন কে কোন অপরাধ করছে বলি তখনই আমাদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। আবার আমাদের চিকিৎসা ও দিচ্ছে না, মামলা ও করতে দিচ্ছে না, উল্টো আমাদের উপর মামলা দিচ্ছে। বিভিন্ন অফিস দখলে নেওয়া, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ ক্ষমতার অপব্যবহার করছে বিএনপি। বিএনপির যদি ১০০ কর্মী থাকে সেখানে ৫ জন বিভিন্ন খারাপ কাজে যুক্ত থাকে এবং বাকী ৯৫ জন কলংকিত হয়। পাশাপাশি সাদা পাথর পর্যটন মেইন স্পটে দোকান নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। এবং সনাতন পদ্ধতিতে পাথর কোয়ারি চালুর জন্য আবেদন করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির কঠোর সমালোচনা বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নে জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মূল্য দিতে হবে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং সেই অবস্থানের বিরুদ্ধে গেলে বিএনপির পতন ঘটবে। তিনি আরো বলেন, তারেক রহমান ৬ মাসে ক্ষমতার পরিক্ষায় ফেইল করেছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকার যোগ্য না। আমরা ক্ষমতা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। আর কোনো উপদেষ্টা তৈরি করা হবে না। সরাসরি এনসিপি ক্ষমতা নিতে প্রস্তুত। উত্তরবজ্ঞের ১০ টাকার সবজি ১০০ টাকা সিন্ডিকেট করে বিক্রি করা হয়। গরিব মেহনতী মানুষের কথা চিন্তা করে পাথর কোয়ারি চালু করার জোড়ালো আহবান জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে। ওসমান হাদী হত্যার বিচার দাবি করে বলেন তারেক রহমান আপনার বাবার খুনি পেয়ে গেলেন ৬ মাসে কিন্তু আমাদের হাদী ভাইয়ের হত্যাকারী পান না কেন???
পাটওয়ারী বলেন, ভোটের দিন রাত ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারসাজি হয়েছে এবং এতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকা ছিল। নির্বাচনের আগে বিএনপির তিনটি প্রধান দাবি ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন, রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তবায়ন এবং আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। এ কারণে সংস্কারবিরোধী অবস্থান নিলে বিএনপি জনসমর্থন হারাবে।
আওয়ামী লীগ আমলের বিভিন্ন অপরাধের বিচার প্রসঙ্গেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করেন, অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে এবং বিচার কার্যক্রম যথাযথভাবে এগোচ্ছে না।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং যুগ্ম সদস্য সচিব ও সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু, সিলেট জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীরা এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা এনসিপির আহবায়ক উবায়েদসহ আরো অনেকে।
