পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শাঁখারীকাঠী ইউনিয়নের তারাবুনিয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে সফলতার এক নতুন দৃষ্টান্ত। এলাকার লিচু চাষী হিমাংশু কুমার মিস্ত্রী লিচু চাষে টানা কয়েক বছরের ঈর্ষণীয় সাফল্যে এলাকায় ‘লিচু সম্রাট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তার বাগানে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে।
২০০৬ সালে বিটিভিতে প্রচারিত ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানে উন্নত কৃষি পদ্ধতির প্রদর্শনী দেখে উদ্বুদ্ধ হন হিমাংশু। এরপর দিনাজপুর থেকে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করে যাত্রা শুরু করেন তার লিচু বাগানের। বর্তমানে তার প্রায় ৭৫ শতাংশের ৪ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে মুজাফফরী ও বোম্বাই জাতের লিচু। হিমাংশু মিস্ত্রী শংকর বলেন, “বিগত বছরগুলোর চেয়ে এ বছর বাজারের অবস্থা বেশ ভালো। প্রতি হাজার লিচু ৩৬০০ থেকে ৩৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছি। আশা করছি, এ বছর ভালো মুনাফা পাব।”
বাগানটি পরিদর্শন করতে আশা দর্শনার্থী সঞ্জীব কুমার রায় জানান,বাগানের লিচুর স্বাদ অত্যন্ত চমৎকার। তারা উল্লেখ করেন, বাগান থেকে লিচু কিনে ক্রেতারা যেমন সন্তুষ্ট, তেমনি বাগান মালিকও লাভবান হচ্ছেন। ক্রেতাদের ভিড়ে মুখরিত থাকে হিমাংশুর বাগান।
নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইশরাতুন্নেছা এশা জানান, নাজিরপুরের ফল চাষীরা এখন জেলার মডেল। চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় স্প্রে মেশিন ও ড্রিফ ইরিগেশনের ব্যবস্থাসহ কারিগরি পরামর্শ দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ। ভবিষ্যতে হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে এই সহায়তা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলা থেকে আসা পাইকারী লিচু ক্রেতা বলেন,আমি এখান থেকে দুই বছর লিচু নেই,এখান থেকে লিচু নিয়ে বিক্রি করলে আমি বেশি বিক্রি করতে পারি,কারন ক্রেতারা এখানকার তাজা লিচু খেয়ে স্বাদ পায় যার কারনে আমার দোকানে ভিড়ও বেশি থাকে এবং বিক্রি ও সবার চেয়ে ভালো হয়।
শাঁখারীকাঠী ইউনিয়নের প্রতিটি ঘরেই এখন ছোট-বড় লিচু বাগান গড়ে উঠেছে।বর্তমানে এই ইউনিয়নে ছোট-বড়-মাঝাড়ি ৭০ টি লিচু বাগান রয়েছে।মিশ্র ফল চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে লিচুর পাশাপাশি আম, বরই ও মালটা চাষে কৃষকরা সফল।পাইকারি ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এ বছর জেলার লিচু চাষিরা রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা লাভের প্রত্যাশা করছেন,যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
পিরোজপুর প্রতিনিধি :
