শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকা মাওনা চৌরাস্তায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। অপরিকল্পিত ও অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তা উড়ালসেতুর দুই পাশে হাঁটুসমান পানি জমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে হঠাৎ করেই শ্রীপুরের আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। কিছুক্ষণ পর শুরু হয় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি। টানা বর্ষণে অল্প সময়ের মধ্যেই মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় সৃষ্টি হয় জলজট। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকায় ড্রেনের ময়লাযুক্ত পানি সড়কে উঠে এসে দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তোলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ড্রেন উপচে পানি সড়কে চলে আসে। এতে সাধারণ মানুষকে কাদাপানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কেউ কেউ মাত্র ২০ গজ রাস্তা পার হতে ১০ টাকা ভাড়া দিয়ে রিকশা ব্যবহার করছেন।
পথচারী আকাশ বলেন, “বৃষ্টি হলেই এই রাস্তায় হাঁটা যায় না। ড্রেনের ময়লা মিশে পানি এত নোংরা হয়ে যায় যে অনেকেই বাধ্য হয়ে রিকশায় চলাচল করেন।”
আরেক পথচারী আক্তার বলেন, “মহাসড়কে জমে থাকা নোংরা পানি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”
শ্রীপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আতিক বলেন, “প্রতিদিনই আমাদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার ও সচল করা দরকার।”
মাওনা চৌরাস্তা শ্রীপুর উপজেলার অন্যতম প্রধান ব্যবসা কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও বিভিন্ন শিল্প-কারখানার শ্রমিক এই সড়ক ব্যবহার করেন। এলাকাজুড়ে রয়েছে অসংখ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ফলে জলাবদ্ধতা শুধু জনভোগান্তিই নয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
শ্রীপুর পৌরসভার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পৌরসভার প্রশাসক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। তবে জনগণের অসচেতনতা ও ড্রেন ব্যবহারে অবহেলার কারণেও সমস্যা বাড়ছে।”
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক নাহিদ ভুঁইয়া বলেন, “দুপুর থেকে টানা বর্ষণের ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ চলছে।”
সচেতন মহলের মতে, শ্রীপুরের মতো অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আধুনিক ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধি
