যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ২নং আমলসার ইউনিয়নের চরপাড়া সম্মিলিত ঈদগাহ ও কবরস্তান মাঠে পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ (২৮ মে) বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় এই ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এই অঞ্চলের অন্যতম বড় এই ঈদ জামাতে অংশ নিতে সকাল থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে। কচুবাড়ীয়া, চরপাড়া, বিলসোনাই, আমলসার, মাদিয়াপাড়া, চরিয়াপাড়া গ্রামসহ আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা ভেদাভেদ ভুলে একই কাতারে শামিল হয়ে সম্মিলিতভাবে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
নামাজ ও খুতবা শেষে উপস্থিত সকল মুসল্লিরা সমবেত কণ্ঠে“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ” তাকবির ধ্বনি আদায় করেন। ঈদের খুতবায় জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাজের পর এই তাকবির পড়ার বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরেন ইমাম সাহেব। তাকবিরের এই পবিত্র ধ্বনি উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে এক আবেগঘন ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে। আলোচনায় বক্তারা বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ হলো ত্যাগের উৎসব। এটি মূলত হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর অনন্য আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক স্মৃতি বহন করে এবং মানুষের ভেতরের পশুত্ব ও লোভ-লালসাকে বিসর্জন দেওয়ার শিক্ষা দেয়।
কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর হয় এবং সামাজিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। পরে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ ও দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর তারা কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে জামাত সম্পন্ন করতে ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল বিশেষ নিরাপত্তা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক ব্যবস্থা। ফলে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই ঈদ জামাত সম্পন্ন হয়।
সোহেল রানা,শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি: