রবিবার, মে ৩১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অস্ট্রেলিয়ায় একই কবরে শায়িত বাংলাদেশি মা ও দুই সন্তান, কাঁদলেন প্রবাসীরা

অস্ট্রেলিয়ায় একই কবরে শায়িত বাংলাদেশি মা ও দুই সন্তান, কাঁদলেন প্রবাসীরা

অস্ট্রেলিয়ায় একই কবরে শায়িত বাংলাদেশি মা ও দুই সন্তান, কাঁদলেন প্রবাসীরা

মৃত্যুর পরেও মা যেন তার দুই সন্তানকে বুকে আগলে রাখলেন—চিরকালের জন্য। একই কবরে পাশাপাশি শায়িত হলেন মা কামরুন নাহার এবং তার দুই শিশু আয়মান আহমেদ ও আয়াশ আরহান।এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি অনেকেই। উপস্থিত মানুষের মনে বারবার ফিরে এসেছে একটাই অনুভূতি—মৃত্যুতেও মা যেন তার দুই সন্তানকে ছেড়ে যাননি।

 

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ক্যাম্পবেলটাউনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক পরিবারে মর্মান্তিক হত্যার শিকার মা ও তার দুই শিশুর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শোক, কান্না আর নিস্তব্ধতায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।শুক্রবার জুমার নামাজের পর সিডনির লাকেম্বা মসজিদে নিহত কামরুন নাহার এবং তার দুই ছেলে আয়মান আহমেদ ও আয়াশ আরহানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের মরদেহ কেম্পস ক্রিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক মানুষসহ নিহতদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী, প্রতিবেশী এবং স্থানীয় কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জানাজার আগে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত কামরুন নাহার অস্ট্রেলিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত ছিলেন। সহকর্মীদের ভাষ্য, তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী, শান্ত স্বভাবের এবং সন্তানদের প্রতি নিবেদিত একজন মা। তার বড় ছেলে আয়মান ছিল সিডনির একটি পারফর্মিং আর্টস স্কুলের শিক্ষার্থী। জানাজায় উপস্থিত ছিল তার কয়েকজন সহপাঠীও। ছোট্ট আয়াশের জন্যও অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।এদিকে, বোন ও দুই ভাগ্নেকে শেষ বিদায় জানাতে বাংলাদেশ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে সিডনিতে যান কামরুন নাহারের ভাই। পরিবারের সদস্যদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

জানাজা শেষে কবরস্থানে যখন পাশাপাশি রাখা হয় তিনটি কফিন, তখন উপস্থিত অনেকেই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। কেউ নীরবে চোখ মুছেছেন, কেউ নিজের সন্তানকে বুকে জড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেকের মুখে ছিল একই প্রশ্ন—এমন পরিণতি কি এড়ানো যেত না?

জানাজায় উপস্থিত একাধিক কমিউনিটি ব্যক্তিরা বলেন, লাকেম্বা মসজিদ থেকে কেম্পস ক্রিক কবরস্থান পর্যন্ত শুক্রবারের বিদায়ের দৃশ্য অনেকের মনেই দীর্ঘদিন রয়ে যাবে। পারিবারিক সম্পর্ক, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সহায়তা নিয়ে আরো সচেতনতা প্রয়োজন বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্যাম্পবেলটাউন এলাকার রেমন্ড অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি থেকে ৪৬ বছর বয়সী কামরুন নাহার এবং তার দুই শিশু সন্তান ১২ বছর বয়সী আয়মান আহমেদ ও ৪ বছর বয়সী আয়াশ আরহানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতদের স্বামী ৪৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ শমন আহামেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে ঘটনাটি সম্পর্কে তিনিই প্রথম তথ্য দেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়। ক্যাম্পবেলটাউন লোকাল কোর্টে মামলাটি প্রাথমিকভাবে উপস্থাপনের পর তাকে জামিন দেওয়া হয়নি। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ঘটনাটি জানাজানির পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির অসংখ্য ব্যক্তি নিহত মা ও দুই শিশুর জন্য দোয়া চেয়ে পোস্ট করেছেন। অনেকে এই ঘটনাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক পারিবারিক ট্র্যাজেডিগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন। একসঙ্গে হারিয়ে যাওয়া তিনটি প্রাণের এই গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়, এটি পুরো একটি কমিউনিটির বেদনার গল্প।