শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মা-বাবার সেবায় স্বীকৃতি পেলেন ৭ জন, আজীবন চিকিৎসা সেবার ঘোষণা

মা-বাবার সেবায় স্বীকৃতি পেলেন ৭ জন, আজীবন চিকিৎসা সেবার ঘোষণা

মা-বাবার সেবায় স্বীকৃতি পেলেন ৭ জন, আজীবন চিকিৎসা সেবার ঘোষণা

 গাজীপুরের শ্রীপুরে বিশ্ব বাঙালি মা-বাবা দিবস-১৪৩৩ উপলক্ষে মা-বাবার সেবায় নিবেদিত নারী-পুরুষদের সম্মাননা প্রদান এবং আজীবন চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ‘মা-বাবার সেবা কেন্দ্র’। অনুষ্ঠানে মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব ও মানবিকতার বার্তা তুলে ধরেন বক্তারা।
রোববার (৩১ মে) দিনব্যাপী উপজেলার নান্দিয়া সাঙ্গুন ভূঞা বাড়ি সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঈদগাহ মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 ‘তোমার পিতা-মাতার প্রতি সদয় হও’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মা-বাবার সেবা কেন্দ্র।
অনুষ্ঠানে মা-বাবার সেবায় বিশেষ অবদান রাখায় আফাজ উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া আরিফ হোসেন, শারফুল মণ্ডলসহ মোট সাতজন নারী-পুরুষকে সম্মানিত করা হয়। একই সঙ্গে মা-বাবার সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য আজীবন চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. শুভ্রাংশু বর্ণাজী বলেন, মা-বাবার সেবা শুধু পারিবারিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি মানবিক ও নৈতিক কর্তব্য। বৃদ্ধ মা-বাবার পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের প্রয়োজনের সময় সহযোগিতা করাই একজন সন্তানের প্রকৃত পরিচয়।


অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মা-বাবার সেবা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সেবক সূফি নজরুল খসরু ভূঞা (দরবেশ) বলেন, “মৃত বাবা-মায়ের কুলখানি, চল্লিশা কিংবা শ্রাদ্ধ করার চেয়ে জীবিত অবস্থায় তাঁদের ওষুধ, পথ্য ও খাবারের ব্যবস্থা করা অনেক বেশি উত্তম। জীবিত মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাতে পারাই সন্তানের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”


তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন আমি আমার বাবা-মায়ের সেবা করেছি। তাঁদের মৃত্যুর পর উপলব্ধি করি, সমাজে অনেক অসহায় মা-বাবা রয়েছেন যাদের দেখভালের কেউ নেই। আমার বাড়ির পাশের সখিনা বেগম নামে এক বৃদ্ধা দীর্ঘদিন অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। আমরা প্রায় আট বছর ধরে তাঁর চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সেবা দিয়েছি। এরপর এককভাবে নয়, সংগঠিতভাবে মানবসেবা করার সিদ্ধান্ত নিই। সেই ভাবনা থেকেই গড়ে ওঠে ‘মা-বাবার সেবা কেন্দ্র’।”


দরবেশ খসরু আরও জানান, গত ৩৩ বছর ধরে মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন তাঁরা। বর্তমানে প্রতিদিন বিনামূল্যে ৮ থেকে ১০ জন অসহায় ও অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা ও সেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জীবিত মা-বাবার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ ও তাঁদের সেবাকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান।

শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি