নিউজ ডেস্ক:
"তোরে পুতুলের মত করে সাজিয়ে", "তুমি রোজ বিকেলে", কিংবা "যেখানে সীমান্ত তোমার"—এর মতো অসংখ্য হৃদয়ছোঁয়া গানের মাধ্যমে কোটি শ্রোতার ভালোবাসা কুড়িয়ে নিয়েছেন যিনি, তিনি কুমার বিশ্বজিৎ।।
বাংলাদেশের সংগীত জগতে অন্যতম জনপ্রিয় ও সম্মানিত নাম কুমার বিশ্বজিৎ। একাধারে তিনি গায়ক, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। পেয়েছেন বহু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও অন্যান্য সম্মাননা।
কুমার বিশ্বজিতের সংগীত যাত্রা শুরু হয় মাত্র ১৪ বছর বয়সে রেডিওতে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর ব্যান্ড ‘রিদম-৭৭’-এর মাধ্যমে গানের ভুবনে তার আনুষ্ঠানিক পদচারণা। কিছুদিন পর নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন নতুন ব্যান্ড। সংগীতের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও নিরলস সাধনার পথ পেরিয়ে হয়ে উঠেছেন বাংলা গানের এক অবিচ্ছেদ্য নাম।
১৯৬৩ সালের ১ জুন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ডাকনাম ‘টুটুল’। বাবা সাধন রঞ্জন দে ও মা শোভা রানী দে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড় হয়ে উঠেছেন সংগীতময় এক পরিবেশে। শিক্ষাজীবন চট্টগ্রাম সিটি কলেজে।
হিন্দু ধর্মালম্বী পরিবারে বেড়ে ওঠায় ছোটবেলা থেকেই কীর্তন ও শ্যামা সংগীতের ছোঁয়ায় অভ্যস্ত ছিলেন। সংগীতের প্রাথমিক অনুপ্রেরণা আসে রেডিও থেকে। এরপর তেজেন বাবুর কাছ থেকে সংগীতের ব্যাকরণ শেখার মাধ্যমে তার সংগীতপথচলা হয়ে ওঠে আরও মসৃণ।
ধ্রুপদী, আধুনিক, লোকগীতি, জীবনমুখী গান—সব ধারাতেই তিনি রেখেছেন দক্ষতার স্বাক্ষর। ‘তোরে পুতুলের মত করে সাজিয়ে’ গানটি দিয়েই তিনি রাতারাতি জনপ্রিয়তা পান। এরপর ‘তুমি রোজ বিকেলে’, ‘ভিটা নাই রে’, ‘আমি সাম্পানে বাঁধিব ঘর’, ‘মানুষ বুড়ো হয় মন বুড়ো হয় না’, ‘মাতাল হাওয়া’সহ অসংখ্য গান হয়ে উঠেছে মানুষের প্রিয় সংগীতসঙ্গী।
নাঈমা সুলতানার সাথে বিবাহিত জীবন এবং তাদের একমাত্র পুত্র নিবিড় কুমার। কয়েক বছর আগে পুত্র নিবিড়ের একটি মারাত্মক দুর্ঘটনার পর সংগীত থেকে খানিকটা দূরে সরে যান তিনি। বর্তমানে স্ত্রীসহ কানাডায় অবস্থান করছেন।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা ও স্বীকৃতি তার গৌরবময় সংগীত জীবনের সাক্ষ্য বহন করে।
এই গুণী শিল্পীর জন্মদিনে এন্টার টিভি পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভকামনা। প্রিয় বিশ্বজিৎ দা, আপনার গান আমাদের ভালোবাসার, অনুভবের আর শিকড়ের অংশ হয়ে আছে এবং থাকবে। শুভ জন্মদিন, চিরসবুজ কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ।