শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যকার, ভাষাসৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষক মমতাজউদদীন আহমদের মৃত্যুবার্ষিকী

আজ একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যকার, ভাষাসৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষক মমতাজউদদীন আহমদের মৃত্যুবার্ষিকী

আজ একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যকার, ভাষাসৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষক মমতাজউদদীন আহমদের মৃত্যুবার্ষিকী

নিউজ ডেস্ক:


তিনি ছিলেন এমন এক আলোকবর্তিকা, যিনি বাংলাদেশের নাট্যচর্চাকে শুধু এগিয়ে নিয়ে যাননি, জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্য-চেতনার সঙ্গে নাট্যকলাকে একসূত্রে গাঁথতে পেরেছেন।

মমতাজউদদীন আহমেদ ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অন্তর্গত মালদহ জেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম কলিমুদ্দিন আহমদ ও মাতার নাম অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমেদ সখিনা বেগম। 
তিনি মালদহ আইহো জুনিয়র স্কুলে চতুর্থ শ্রেণী পর্যস্ত লেখাপড়া করে ১৯৫১ সালে ভোলাহাট রামেশ্বর পাইলট মডেল ইন্সটিটিউশন থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। দেশ বিভাগের পর তার পরিবার তদানিন্তন পূর্ববঙ্গে চলে আসেন। পরবর্তীতে রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় বি.এ (অনার্স) ও এম.এ ডিগ্রী লাভ করেন।


তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলায় শৈশব অতিবাহিত করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে অংশ নেন। রাজশাহীর ভাষা আন্দোলন কর্মী গোলাম আরিফ টিপুর সাথে তিনি রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেন। 
রাজশাহী কলেজে বাংলাদেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণেও ভূমিকা পালন করেন মমতাজউদদীন আহমেদ। ১৯৫৪, ১৯৫৫, ১৯৫৭ ও ১৯৫৮ সালে তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির কারণে কারাবরণ করেন।

বেতারে তাঁর অনেক নাটকই প্রচার হয়েছে এবং প্রায় সবই শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে বেতারে প্রচারিত জনপ্রিয় নাটকের মধ্যে অন্যতম হলো ‘কী চাহো শঙ্খচিল’। এটি মমতাজউদদীন আহমেদেরও প্রিয় নাটক। টেলিভিশনে তাঁর লেখা প্রচার হওয়া প্রথম নাটক ছিল ‘দখিনের জানালা’। এটি নির্মাণ করেছিলেন প্রয়াত আতিকুল হক চৌধুরী। 
তিনি ছিলেন শুধুমাত্র একজন নাট্যকার নন, একাধারে প্রাবন্ধিক, উপন্যাসিক, অভিনেতা, সুবক্তা এবং সংস্কৃতি যোদ্ধা। তিনি তাঁর লেখনির মাধ্যমে বারবার তুলে এনেছেন সমাজ, রাষ্ট্র, ইতিহাস ও মানুষের কথা। ‘কী চাহ শঙ্খচিল’, ‘রাজা অনুস্বরের পালা’, ‘বকুলপুরের স্বাধীনতা’ সহ অসংখ্য নাটকে উঠে এসেছে তাঁর অসাধারণ সৃজনশীলতা, শাণিত দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানবিক বোধ।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
নাটক: স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা, নাট্যত্রয়ী, প্রেম বিবাহ সুটকেশ, রঙ্গপঞ্চদশ, সাত ঘাটের কানাকড়ি, রাক্ষসী

গবেষণা ও প্রবন্ধ: বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত, প্রসঙ্গ বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত
উপন্যাস ও গদ্য: সজল তোমার ঠিকানা, এক যে মধুমতি, আমার ভিতরে আমি, জন্তুর ভিতর মানুষ, সাহসী অথচ সাহস্য।
বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—সব মাধ্যমে তাঁর দক্ষতা ছিল সমান উজ্জ্বল। ‘দখিনের জানালা’, ‘ঝড়ের মধ্যে বসবাস’, ‘কূল নাই কিনার নাই’, ‘সহচর’– এসব নাটক আজও মানুষের মনে গেঁথে আছে।

চলচ্চিত্রেও তাঁর অবদান ছিল বিস্ময়কর:
* ‘লাল সবুজের পালা’ (চিত্রনাট্য)
* ‘শঙ্খনীল কারাগার’ (অভিনয়)
* ‘চিত্রা নদীর পাড়ে’, ‘নদীর নাম মধুমতি’ ইত্যাদি
চট্টগ্রাম কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৩২ বছরের বেশি সময় শিক্ষকতা করেছেন। ইউরোপীয় নাট্যকলার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে তিনি ছিলেন বিশেষজ্ঞ।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নেও তাঁর ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
ভারতের দিল্লি, জয়পুর, কলকাতায় নাট্য মঞ্চায়ন করেছেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
পুরস্কার ও সম্মাননা:
* বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৬)
* একুশে পদক (১৯৯৭)
* শিল্পকলা একাডেমি বিশেষ সম্মাননা
* শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার
* আলাউল সাহিত্য পুরস্কারসহ বহু স্বীকৃতি
২০১৯ সালের ২ জুন রাজধানীর অ্যাপলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেশবরেণ্য গুণী এই নাট্যকার ৮৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।

আজ তাঁর পঞ্চম প্রয়াণ দিবসে তাঁকে এন্টার টিভি পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি।
তাঁর নাটক ও লেখাগুলো শুধু সাহিত্য নয়, আমাদের ইতিহাস, সংগ্রাম ও জাতিসত্তার প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকবে যুগ যুগ ধরে।
তাঁর প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।