শনিবার, জুন ৬, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রিপেইড মিটারের দীর্ঘ টোকেনে চরম ভোগান্তি, গ্রাহকসেবার দুর্বলতায় ক্ষোভে কিশোরগঞ্জ বাসী।

প্রিপেইড মিটারের দীর্ঘ টোকেনে চরম ভোগান্তি, গ্রাহকসেবার দুর্বলতায় ক্ষোভে কিশোরগঞ্জ বাসী।

প্রিপেইড মিটারের দীর্ঘ টোকেনে চরম ভোগান্তি, গ্রাহকসেবার দুর্বলতায় ক্ষোভে কিশোরগঞ্জ বাসী।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ টোকেনের অস্বাভাবিক দীর্ঘ নম্বর নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। আগে যেখানে ২০ ডিজিটের টোকেন নম্বর ব্যবহার করে সহজেই বিদ্যুৎ রিচার্জ করা যেত, সেখানে বর্তমানে ১৬০ থেকে ৩২০ ডিজিট পর্যন্ত দীর্ঘ টোকেন নম্বর প্রবেশ করাতে হচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আওতাধীন প্রিপেইড মিটারগুলোর ‘কি রিভিশন নম্বর (KRN)’ বা নিরাপত্তা কোড আপডেট করার কারণে এই দীর্ঘ টোকেন তৈরি হচ্ছে। বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ও ভ্যাট সংক্রান্ত তথ্য মিটারের সফটওয়্যারে যুক্ত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এই আপডেট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তবে বাস্তবে দীর্ঘ টোকেন নম্বর মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন গ্রাহকরা। একটি সংখ্যা ভুল হলে পুরো টোকেন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বারবার ভুল কোড প্রবেশ করানোর কারণে মিটার লক হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

কিশোরগঞ্জের হারুয়া এলাকার বাসিন্দা আলমাছ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমি সবসময় ২০ ডিজিটের টোকেন ব্যবহার করে মিটারে টাকা রিচার্জ করতাম। কিন্তু চলতি মাসে প্রায় ১৮০ ডিজিটের টোকেন পেয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। বিষয়টি জানতে বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলে আমাকে বলা হয়,সব নম্বর একসঙ্গে চাপতে হবে। পরে দেখি ২০ ডিজিটের বেশি মিটারের স্ক্রিনে দেখাচ্ছে না। আবার যোগাযোগ করলে বলা হয় মিটার নষ্ট হয়ে গেছে এবং নতুন মিটার নিতে হবে।

পরে অন্য একটি সূত্র থেকে জানতে পারি, প্রতি ২০ ডিজিট প্রবেশ করার পর সবুজ বাটন চাপ দিয়ে আবার পরবর্তী অংশ প্রবেশ করতে হয়। অথচ এই তথ্য বিদ্যুৎ অফিস থেকে আমাকে জানানো হয়নি।

আরেক গ্রাহক রওফ মিয়া বলেন,যারা বিদ্যুৎ অফিসের হটলাইন বা টেলিফোন সেবায় দায়িত্ব পালন করেন, তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হন। বিদ্যুৎ বিভাগকে এ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, প্রিপেইড মিটারের নতুন টোকেন পদ্ধতি সম্পর্কে গণমাধ্যম,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এসএমএসের মাধ্যমে আগাম প্রচার চালানো হলে সাধারণ মানুষ এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতেন না। একই সঙ্গে গ্রাহকসেবা কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে দীর্ঘ টোকেন নম্বর ব্যবহারের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচারণা ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

মোঃ-মাহ্ফুজুল হক খান (জিকু) কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।