শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এক শ্রমিকের মৃত্যু, তারপর তাণ্ডব: শ্রীপুর শিল্পাঞ্চলে ক্ষোভ, গুজব না পরিকল্পিত হামলা?

এক শ্রমিকের মৃত্যু, তারপর তাণ্ডব: শ্রীপুর শিল্পাঞ্চলে ক্ষোভ, গুজব না পরিকল্পিত হামলা?

এক শ্রমিকের মৃত্যু, তারপর তাণ্ডব: শ্রীপুর শিল্পাঞ্চলে ক্ষোভ, গুজব না পরিকল্পিত হামলা?

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ এবং পরবর্তীতে একাধিক কারখানায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে শিল্পাঞ্চলের শ্রম পরিবেশ, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা এবং গুজবনির্ভর সহিংসতার উৎস নিয়ে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানার শ্রমিক লিজা আক্তারের (৩৬) মৃত্যুর প্রতিবাদে শ্রমিকরা মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও কিছু সময়ের মধ্যেই শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।
 

নিহত লিজা আক্তার পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হোগলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শ্রীপুরে ভাড়া বাসায় থেকে ওই কারখানায় কাজ করতেন।
সহকর্মীদের অভিযোগ, অসুস্থতা অনুভব করলেও লিজা আক্তারকে ছুটি দেওয়া হয়নি। বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কারখানার ভেতরেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
 

শ্রমিকদের দাবি, কারখানাটিতে নিয়মিত অতিরিক্ত সময় কাজ করানো হয়। সকাল ৮টায় কাজ শুরু হলেও অনেক সময় মধ্যরাত কিংবা রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়ছে। লিজার মৃত্যুর ঘটনায় এসব অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লিজার মৃত্যুর ঘটনায় শ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে এলাকায় আরেক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এক থেকে দেড় হাজার মানুষের একটি বিক্ষুব্ধ দল সাততলা এলাকার এমএইচসি অ্যাপারেলস লিমিটেড, পারটেক্স গ্রুপের ট্রিপল অ্যাপারেলস লিমিটেড, লিফ গ্রেড ক্যাজুয়েলওয়্যার লিমিটেডসহ অন্তত পাঁচ থেকে সাতটি কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
 

ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর কতৃপক্ষের দাবি, হামলায় শ্রমিকবাহী বাস, প্রাইভেটকার, ট্রাক, মোটরসাইকেল, গেট, রিসেপশন, স্টোররুম এবং বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙচুরে অংশ নেওয়া অনেকেই সংশ্লিষ্ট কারখানার শ্রমিক নন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কিশোর ও তরুণ বয়সী। হাতে লাঠিসোটা নিয়ে তারা বিভিন্ন কারখানার সামনে অবস্থান নেয় এবং পরে হামলায় অংশ নেয়।
 

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে, শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ক্ষোভের সুযোগে কোনো পক্ষ পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতিকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে কি না।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, নারী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে সড়ক অবরোধ করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলার কয়েকটি কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
 

অন্যদিকে চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিজা আক্তারকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অসুস্থ আরেক নারী শ্রমিক বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শিল্পাঞ্চলের এই ঘটনার পর শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এবং গুজবনির্ভর সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারির দাবি জোরালো হয়েছে। শ্রমিক নেতারা বলছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি কারখানাগুলোতে শ্রম আইন ও কর্মপরিবেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
 

এখন সবার নজর প্রশাসনের তদন্তে। লিজা আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং পরবর্তী সহিংসতার নেপথ্যের বাস্তবতা কী বেরিয়ে আসে, সেটিই দেখার বিষয়। 

শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি: