বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শ্রীপুরে নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পাঁচ কারখানায় তাণ্ডব: তিন মামলায় ১,১০০ অজ্ঞাত আসামি, গ্রেপ্তার ২

শ্রীপুরে নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পাঁচ কারখানায় তাণ্ডব: তিন মামলায় ১,১০০ অজ্ঞাত আসামি, গ্রেপ্তার ২

শ্রীপুরে নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পাঁচ কারখানায় তাণ্ডব: তিন মামলায় ১,১০০ অজ্ঞাত আসামি, গ্রেপ্তার ২

গাজীপুরের শ্রীপুরে কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাঁচটি পোশাক কারখানায় হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলায় ১ হাজার ১০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল এবং কীভাবে শ্রমিক অসন্তোষ সহিংসতায় রূপ নিল, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত নারী শ্রমিক লিজা বেগম (৩৭) পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হুগলাবানিয়া গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কড়ইতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডে সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
 

গত বুধবার রাতে কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন লিজা বেগম। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকালে সহকর্মীরা কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শ্রমিকদের উসকানি দেয় এবং দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করে একাধিক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
হামলার শিকার কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে মাওনা চৌরাস্তা এলাকার ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, কেওয়া এলাকার ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেড, এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড এবং সিআরসি অ্যাপারেলসহ মোট পাঁচটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। হামলাকারীরা কারখানার ভেতরে ও বাইরে থাকা শ্রমিক পরিবহন বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং পণ্যবাহী বিভিন্ন যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী আহত হন।
 

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেড, এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড এবং ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে। মামলাগুলোতে ট্রিপল অ্যাপারেলে হামলার ঘটনায় ৩০০ জন, এমএইচসি অ্যাপারেলে ৫০০ জন এবং ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলসে হামলার ঘটনায় আরও ৩০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০০ থেকে ৩০০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে কারখানার প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন স্থাপনা ও যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
 

এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেডের অ্যাডমিন ব্যবস্থাপক মো. ফারুক মিয়া বলেন, প্রায় ৫০০ জনের একটি দল কারখানায় হামলা চালিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে। হামলাকারীরা সাততলা ভবনের প্রায় প্রতিটি ফ্লোরে ভাঙচুর চালায়, এতে কম্পিউটার রুমসহ বিভিন্ন বিভাগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, "মামলার অধিকাংশ আসামিই দুষ্কৃতকারী। কিছু শ্রমিক থাকলেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর শ্রমিক নন। ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে।"
এদিকে, শিল্পাঞ্চলে সংঘটিত এ সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পমহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নারী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধি: