ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌরসভার নির্ধারিত কসাইখানায় পশু জবাইয়ের নিয়ম অমান্য করে বিভিন্ন স্থানে পশু জবাই এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পচা ও বাসিযুক্ত মাংস বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং পৌরসভার বিধি-বিধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিচালিত এ অভিযানে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
সোমবার সকালে কসবা পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করেন কসবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির।
অভিযানের সময় দেখা যায়, পৌরসভার নির্ধারিত কসাইখানা ব্যবহার না করে কয়েকজন ব্যবসায়ী খোলা ও অননুমোদিত স্থানে পশু জবাই করছেন। এছাড়া কিছু স্থানে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মাংস সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগও পাওয়া যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার নির্ধারিত কসাইখানায় পশু জবাই না করা এবং পচা ও বাসিযুক্ত মাংস বিক্রির দায়ে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এক ব্যবসায়ীকে সতর্ক করার পাশাপাশি ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে কসবা পৌরসভার প্রধান সহকারী কাজী আনিসুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ ফজলুল করিম, কর আদায়কারী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোছাম্মৎ তাহেরা আক্তার উপস্থিত ছিলেন। তারা বাজার এলাকায় মাংস বিক্রির পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত বিষয়গুলোও পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির বলেন, জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে পৌরসভার নির্ধারিত কসাইখানায় পশু জবাই নিশ্চিত করতে হবে।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস বিক্রি কিংবা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্ধারিত কসাইখানা ব্যবহার করলে পরিবেশ দূষণ কমে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহজ হয় এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত থাকে। তাই সকল ব্যবসায়ীকে নিয়ম মেনে পৌরসভার নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জনস্বার্থে পরিচালিত এ ধরনের অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, বাজারে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে অসাধু ব্যবসায়ীদের অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে এবং সাধারণ ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্য পেতে উপকৃত হবেন।
শাহ মুহাম্মদ ফুরকানুল ইসলাম
