শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঘোড়াঘাটে ২০ বছরেও জনবল নেই, এক কর্মকর্তার কাঁধে ৬৭ স্কুল

ঘোড়াঘাটে ২০ বছরেও জনবল নেই, এক কর্মকর্তার কাঁধে ৬৭ স্কুল

ঘোড়াঘাটে ২০ বছরেও জনবল নেই, এক কর্মকর্তার কাঁধে ৬৭ স্কুল

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নানা প্রকল্প ও উন্নয়নের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে জনবল সংকটের চিত্র যেন উল্টো বাস্তবতা তুলে ধরছে। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় প্রায় দুই দশক ধরে মাত্র একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদারকির দায়িত্ব। এতে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন, পাঠদানের মান মূল্যায়ন, শিক্ষকদের একাডেমিক সহায়তা এবং প্রশাসনিক নজরদারি কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অথচ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিমালায় প্রতি ১৫ থেকে ২৫টি বিদ্যালয়ের জন্য একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থাকার নির্দেশনা রয়েছে। সেই হিসাবে ঘোড়াঘাটের ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একাধিক কর্মকর্তা প্রয়োজন হলেও বর্তমানে একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়নের সব বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন কর্মকর্তা।

শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন কর্মকর্তার পক্ষে এত বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পরিদর্শন ও কার্যকর তদারকি করা বাস্তবসম্মত নয়। ফলে কোথাও পাঠদানের মান কমে যাচ্ছে কি না, শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশে সমস্যা রয়েছে কি না কিংবা শিক্ষকরা প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তা পাচ্ছেন কি না এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি সম্ভব হচ্ছে না। এর প্রভাব পড়ছে প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক মানের ওপর।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, শিক্ষা খাতে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তদারকি ব্যবস্থাই বছরের পর বছর অবহেলিত। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলো পূরণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না।

ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান বলেন, “নিয়মিত তদারকি শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়, এটি শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন এবং পাঠদানের মানোন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদ পূরণ না হওয়ায় বিদ্যালয়গুলো সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”

দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস অখিল বলেন, “৬৭টি বিদ্যালয়ের মনিটরিং, শিক্ষকদের একাডেমিক সহায়তা, বিভিন্ন পরীক্ষা, তথ্য যাচাই-বাছাই এবং সব বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব একাই পালন করতে হচ্ছে। একজন মানুষের পক্ষে সব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এখানে অন্তত আরও একটি পদ সৃষ্টি করা হলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হতো।”

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বলেন, “জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় নিয়োগ হলে বিদ্যালয় তদারকি আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।”

নীতিমালায় জনবল কাঠামো স্পষ্ট থাকার পরও কেন প্রায় দুই দশক ধরে শূন্য পদগুলো পূরণ হয়নি, এ প্রশ্ন এখন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাদের মতে, মাঠপর্যায়ের এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

মো: রাফছানজানী শুভ 
ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর