তিনি শুধু একজন আবৃত্তিশিল্পী নন; ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, স্থপতি, লেখক, সংগঠক ও সংস্কৃতিসেবী।
বাংলাদেশের আবৃত্তি আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পেছনে যাঁদের অক্লান্ত শ্রম ও ভালোবাসা রয়েছে, তাঁদের মধ্যে কাজী আরিফ অগ্রগণ্য।
১৯৫২ সালের ৩১ অক্টোবর রাজবাড়ী জেলার কাজীকান্দা গ্রামে জন্ম তাঁর।
শৈশব ও কৈশোর কেটেছে চট্টগ্রামে— সেখানেই তাঁর পড়াশোনা, রাজনীতি, শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশ।
পিতা কাজী আজিজুল ইসলাম ছিলেন পাকিস্তান ইউনাইটেড ব্যাংকের কর্মকর্তা, মা কাজী নিন্নি ইসলাম।
ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কাজী আরিফ।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন ১ নম্বর সেক্টরে, মেজর রফিকের নেতৃত্বে।
যুদ্ধোত্তর সময়ে ভর্তি হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) এবং স্থাপত্যবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি নিজেকে যুক্ত রাখেন সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায়।
কাজী আরিফের আবৃত্তির সূচনা বুয়েটে অধ্যয়নকালীন সময়ে।
১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে নিয়মিত আবৃত্তি শুরু করেন।
১৯৮০ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম আবৃত্তি অ্যালবাম ‘পত্রপুট’ তাঁকে এনে দেয় বিশেষ খ্যাতি ও শ্রোতাপ্রিয়তা।
দেশের আবৃত্তিশিল্পে তিনি এনেছিলেন ছন্দ, ধ্বনি, ভাব ও প্রকাশের নতুন এক দিগন্ত।
তাঁর কণ্ঠে কবিতা হয়ে উঠত জীবন্ত— কখনো প্রতিবাদের, কখনো প্রেমের, কখনো মানবতার উচ্চারণ।
তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘মুক্তকণ্ঠ আবৃত্তি একাডেমি’, যা আজও তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম।
এছাড়াও তিনি ছিলেন বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং আবৃত্তি চর্চার এক নিবেদিত সংগঠক।
২০১৭ সালের ২৯ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি পরলোকগমন করেন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।
তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী — বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী প্রজ্ঞা লাবণী, দুই কন্যা ও অগণিত গুণগ্রাহী।
আজ আবৃত্তিশিল্পী কাজী আরিফের জন্মদিন।
কণ্ঠে যিনি জাগিয়েছেন মুক্তির সুর, উচ্চারণে যিনি ছুঁয়ে গেছেন জাতির হৃদয়।
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা চিরঅমলিন।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা