কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার চিকনী আউজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে চলন্ত অবস্থায় ছাদের পলেস্তরাসহ একটি বৈদ্যুতিক পাখা (ফ্যান) ছিঁড়ে নিচে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও অলৌকিকভাবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর কক্ষে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
যেভাবে ঘটল ঘটনা
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতোই সোমবার সকালে প্রথম শ্রেণীর কক্ষে পাঠদান করাচ্ছিলেন একজন শিক্ষিকা। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে ছাদের পলেস্তরাসহ একটি চলন্ত বৈদ্যুতিক পাখা খুলে সরাসরি মেঝেতে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো শ্রেণিকক্ষে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়ে শিক্ষার্থীরা ওদিক-সেদিক ছোটাছুটি শুরু করে।
জানা গেছে, ফ্যানটি ঠিক শিক্ষিকার টেবিল এবং শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চের মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় আছড়ে পড়ে। মাত্র কয়েক সেকেন্ড ও সামান্য দূরত্বের ব্যবধানের কারণে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক আঘাত পাননি।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ
এই ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই শ্রেণিকক্ষে আরও একটি বৈদ্যুতিক পাখা চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ঝুলছে। অভিভাবকেরা অতি দ্রুত পুরো বিদ্যালয় ভবনটি পরীক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম ভূঞা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:
"পাঠদান চলাকালে হঠাৎ করেই ছাদের পলেস্তরাসহ একটি বৈদ্যুতিক পাখা খুলে পড়ে। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের কোনো সন্তান বা শিক্ষক আহত হয়নি। আমি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে উপজেলা সদরে পাঠিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা আখতারের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা করব।"
নিরাপদ পরিবেশের দাবি
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের দাবি, কোমলমতি শিশুদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস করানো কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। যেকোনো বড় দুর্ঘটনা এড়াতে উপজেলা প্রশাসন যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং বিদ্যালয়ে একটি নিরাপদ ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত |
প্রতিনিধি মো : রেজুয়ানুল হক| প্রকাশ
