বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচন ঘিরে দিন যত এগোচ্ছে, ততই উত্তাপ ছড়াচ্ছে এফডিসি। প্রার্থীদের প্রচারণা, সিনিয়র শিল্পীদের সমর্থন আর নানা সমীকরণে জমে উঠেছে এবারের নির্বাচন। এরই মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি।
তার এই নির্বাচনি লড়াইয়ে প্রকাশ্যে পাশে দাঁড়িয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম নায়ক ওমর সানী।
এক সময় রুপালি পর্দায় যাদের রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল, বহু বছর পর সেই জুটিই আবার এক ফ্রেমে। তবে এবার সিনেমার জন্য নয়, শিল্পী সমিতির নির্বাচনের মঞ্চে তারা এক হলেন।
১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চাঁদের আলো’ সিনেমার মাধ্যমে একসঙ্গে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছিল ওমর সানী ও মুক্তির। শেখ নজরুল ইসলাম পরিচালিত সেই সিনেমা ছিল সে সময়ের অন্যতম আলোচিত ছবি। বিশেষ করে ‘চুপি চুপি বলো কেউ জেনে যাবে’ গানটি আজও দর্শকদের নস্টালজিয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
প্রথম সিনেমায়ই দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া সেই জুটির বন্ধন যে এখনও অটুট, তারই প্রমাণ মিলল এবারের নির্বাচনি প্রচারণায়।
সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে এসে গণমাধ্যমের সামনে মুক্তির প্রতি নিজের অকুণ্ঠ সমর্থনের কথা জানান ওমর সানী।
তিনি বলেন, ‘ও (মুক্তি) আমার প্রথম সিনেমার নায়িকা। আমি মুক্তিকে আশীর্বাদ দিতে এফডিসিতে এসেছি। আমি যদি এটা না করি, তাহলে আমার কর্মজীবনের সঙ্গে গাফলতি হবে। আমি চাই মুক্তি ভালো কিছু করুক।’
শুধু মুক্তির প্রশংসাই নয়, এবারের নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী অভিনেতা ও ফাইট ডিরেক্টর আরমান সম্পর্কেও নিজের শ্রদ্ধার কথা তুলে ধরেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা। ওমর সানীর ভাষায়, ‘আরমান ভাইয়ের কাছ থেকেই আমরা অনেক বড় হয়েছি। শিল্পী সমিতি একটা সময় ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। আপনারা জানেন, জোরজবরদস্তির একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। গত দশ বছরে অনেক ওঠানামা হয়েছে। এবার সেই পরিস্থিতি নেই। আমি চাই মুক্তির জায়গাটা আরও উজ্জ্বল হোক। আমি প্রকাশ্যে মুক্তির সঙ্গে আছি। তার পুরো প্যানেলের জন্য শুভকামনা।’
সিনিয়র শিল্পীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আরমান ভাই সভাপতি প্রার্থী হওয়ায় আমি অবাক হয়েছি। তিনি সবকিছু দিয়ে সিনেমাকে ভালোবাসেন। আল্লাহ তাকে অনেক কিছু দিয়েছেন। মুক্তি, কমল এদেরও অনেক কিছু আছে। এফডিসিতে না এলেও তাদের কিছু যায় আসে না। কিন্তু চলচ্চিত্রকে ভালোবেসেই তারা এখানে আসে। এই মানুষগুলোর কাজ করার সুযোগ পাওয়া উচিত।’
এফডিসিতে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মুক্তির জন্য আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন ওমর সানী। ‘চাঁদের আলো’ সিনেমার পোস্টার ও মুক্তির একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন ‘আমার প্রথম সিনেমার নায়িকা, শ্রদ্ধেয় আনোয়ারা খালার সুযোগ্য কন্যা মুক্তি শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে দাঁড়িয়েছে। ওর জন্য আমার মন থেকে অনেক দোয়া ও শুভকামনা রইল।’
এদিকে দীর্ঘদিনের সহশিল্পীর কাছ থেকে এমন ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়ে আবেগাপ্লুত মুক্তিও। তিনি বলেন, ‘সমুদ্রের যেমন কূলকিনারা নেই, এই খুশিরও তেমন কূলকিনারা নেই। আমার প্রথম সিনেমার নায়ক ওমর সানী ভাই। তিনি আমাকে দোয়া দিতে এসেছেন। আগে থেকেই দোয়া করেছেন, এবার গণমাধ্যমের সামনেও করলেন। তাকে পাশে পেয়ে আমি ভীষণ খুশি।’
প্রখ্যাত অভিনেত্রী আনোয়ারার মেয়ে রুমানা ইসলাম মুক্তি দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সংকট, আনন্দ-বেদনায় সবসময়ই সক্রিয় ছিলেন। এবার সরাসরি শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করে নতুন এক দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, দীর্ঘদিনের শিল্পীসত্তা এবং চলচ্চিত্র পরিবারের উত্তরাধিকার সব মিলিয়ে মুক্তি সমিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে এসেছেন। অন্যদিকে, ওমর সানীর মতো জনপ্রিয় ও সম্মানিত একজন সহশিল্পীর প্রকাশ্য সমর্থন তার নির্বাচনি প্রচারণায় নিঃসন্দেহে বাড়তি শক্তি জোগাবে।
