শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ কণ্ঠশিল্পী, সৃষ্টিশীল চিত্রশিল্পী, নাট্যকর্মী, গীতিকার ও বাদ্যযন্ত্রী রাহুল আনন্দের জন্মদিন

আজ কণ্ঠশিল্পী, সৃষ্টিশীল চিত্রশিল্পী, নাট্যকর্মী, গীতিকার ও বাদ্যযন্ত্রী রাহুল আনন্দের জন্মদিন

আজ কণ্ঠশিল্পী, সৃষ্টিশীল চিত্রশিল্পী, নাট্যকর্মী, গীতিকার ও বাদ্যযন্ত্রী রাহুল আনন্দের জন্মদিন


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাত্র ছিলেন রাহুল আনন্দ। আঁকতেন ছবি। তবে চিত্রশিল্পী না হয়ে তিনি হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী। ছাত্রজীবন থেকে নিজ হাতে তিনি তৈরি করেন নানান রকম সুরযন্ত্র। এ ছাড়া থিয়েটারেও অভিনয় করেছেন তিনি। থিয়েটার গ্রুপ প্রাচ্যনাটের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন এই শিল্পী। তিনি শুধু একজন কণ্ঠশিল্পী নন, একজন সৃষ্টিশীল চিত্রশিল্পী, নাট্যকর্মী, গীতিকার ও বাদ্যযন্ত্রী—এক কথায় এক বহুমাত্রিক শিল্পীমন।

হাওড়ের ঢেউয়ের সঙ্গেই কেটেছে এই গুণী মানুষটির শৈশব।
রাহুল আনন্দ ১৯৭৬ সালের ৩০ জুন হবিগঞ্জে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায়। নারায়ণগঞ্জে তার স্কুল জীবন কেটেছে। এরপর আবার সিলেটে কলেজ জীবন অতিবাহিত করেন। সেখানেই তাঁর থিয়েটারে যুক্ত হওয়া। 
এরপর ঢাকায় এসে ভর্তি হন চারুকলায়। চারুকলা থেকে গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর (MFA) ডিগ্রি অর্জন করেন।
পাশাপাশি যুক্ত হন আরণ্যক নাট্যদলে। রাহুল আনন্দ তার স্ত্রী ঊর্মিলা শুক্লা ও একমাত্র ছেলে তোতাকে নিয়ে ধানমণ্ডি বত্রিশ নাম্বারের একটি বাড়িতে বসবাস করেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর রাহুল আরণ্যক নাট্যদলে যুক্ত হন। এরপর সহশিল্পীদের সঙ্গে গড়ে তোলেন নিজেদের নাট্যদল ‘প্রাচ্যনাট’। এই থিয়েটারে কাজের সময়েই অনেক গানের মানুষের সঙ্গে রাহুল আনন্দের বন্ধুত্ব হয়। আস্তে আস্তে গানের দিকে ঝুঁকতে থাকেন তিনি। এরপর ২০০৬ সালে ‘জলের গান’ নাম নিয়ে নতুন গানের গানের দলের যাত্রা শুরু করেন রাহুল আনন্দ ও তার সহশিল্পীরা। রাহুল আনন্দ মূলত একাধিক বাদ্যযন্ত্র যেমন- বাঁশি, ঢোল, দোতারা, হারমোনিয়াম ইত্যাদি বাঁজাতে পারদর্শী। এছাড়াও তিনি ও তার গানের দল জলের গান নিজেদের বানানো বাদ্যযন্ত্র দিয়েই সঙ্গীত পরিবেশন করে থাকেন।

 

হাওড়ের নদী-জলের সঙ্গে শৈশব কাটিয়ে কৈশরে শহরের নাগরিক জীবন। এই দুই মিলেই তৈরি হয়েছে রাহুল আনন্দের শিল্পীমানস। এ জন্যই রাহুল আনন্দের গানকে প্রান্তিক মানুষও আপন করে নিয়েছে। 
আবার শহরের নাগরিক মানুষও ভালোবাসে তার ভিন্নধর্মী গান। 
কলেজে পড়ার সময় সিলেটের 'দর্পণ থিয়েটার' এ যোগ দেন রাহুল ও তার কয়েকজন বন্ধু। তখন থেকেই থিয়েটারচর্চা শুরু। এরপর ঢাকায় চারুকলায় ভর্তি হন।

 

একই সময়ে 'আরণ্যক নাট্যদল' এর সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। পরবর্তীতে 'আরণ্যক' ছেড়ে নিজেরা গড়ে তোলেন নাট্যসংগঠন 'প্রাচ্যনাট'। 
চারুকলায় পড়ার সময় রাহুলের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় কনক আদিত্যের। দুজনই গান পাগল।
পরবর্তীতে তাদের গানের সঙ্গী হয় জার্নাল, যুক্ত হন আরও কয়েকজন তরুণ। নিজেরা মিলে থিয়েটারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং ঘরোয়া আড্ডায় গান করেন।


আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৬ সাল থেকে 'জলের গান' নাম নিয়ে যাত্রা শুরু। সেই থেকেই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে 'জলের গান'।
রঙের গান, ও ঝরা পাতা, পাখির গান, বৃষ্টির গান, বকুল ফুল, বাউলা বাতাস, দূরে থাকা মেঘ—
এসব গান কেবল গান নয়, মানুষের হৃদয়ের গল্প, প্রকৃতির প্রেম ও আত্মার আর্তনাদ।
রাহুল আনন্দ নিজের হাতে তৈরি করেন বিভিন্ন সুরযন্ত্র। বাঁশি, ঢোল, দোতারা, হারমোনিয়াম—এই চিরচেনা যন্ত্রগুলোর পাশাপাশি ‘জলের গান’ নিজস্বভাবে উদ্ভাবন করেছে অনেক নতুন বাদ্যযন্ত্র, যেগুলোতেও তিনি সমান পারদর্শী।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে


রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও গণ-অভ্যুত্থানের সময় ধানমন্ডিতে তাঁর ঐতিহাসিক বাড়িটিতে ভাঙচুর, ব্যাপক লুটপাট এবং এই সময় কে বা কারা তার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। সেদিন পরিবার নিয়ে এককাপড়ে ভাঙ্গাবাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল তাকে। এতে পুড়ে যায় তার সবকিছু। পুড়ে যায় সব—বাদ্যযন্ত্র, রেকর্ডিং স্টুডিও, স্মৃতি, সংগ্রহ। যেটিকে শিল্পী রাহুল ডাকতেন ‘ভাঙ্গাবাড়ি’ নামে। এই ভাঙ্গাবাড়িতে হয়েছে বহু সাংস্কৃতিক আড্ডা, ‘জলের গান’-এর বহু গান ওই বাড়িতে বসেই বেঁধেছেন রাহুলরা। বাড়িটিকে স্টুডিও হিসেবেও ব্যবহার করতেন তারা। সেখানে রেকর্ডিং, মিক্সিং, এডিটিং সব কাজই করেছে জলের গান। ২০২৩ সালে ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এসে বাড়িটিতে ঘুরতে গিয়েছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ।
তাঁর "ভাঙ্গাবাড়ি" পুড়ে যাবার পর থেকে আর কোথাও দেখা যায়নি রাহুল আনন্দকে। তার কদিন পরই সপরিবারে দেশান্তরি হন এই শিল্পী।

 

বর্তমানে সপরিবারে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন শিল্পী রাহুল আনন্দ। বাড়ি ও প্রিয় সুরবাদ্যযন্ত্রগুলো হারানোর বিভীষিকাময় স্মৃতি এখনো দগদগে তার হৃদয়ে। স্ত্রী ঊর্মিলা শুক্লা ও কিশোর সন্তান তোতাকে নিয়ে আনন্দে দিনযাপনের চেষ্টা করছেন। দেশ ছাড়ার শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি এই শিল্পী।
আজ সেই শিল্পীর জন্মদিন।
একজন ব্যতিক্রমী মানুষ, যিনি নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন—শিল্প কোনো ফ্রেমে বাঁধা থাকে না।
তার গান যেমন গ্রামবাংলার মানুষের কাছে আপন, তেমনি শহরের নাগরিক মনেও জাগিয়ে তোলে সুরের ঢেউ। শুভ জন্মদিন, শিল্পী রাহুল আনন্দ।
আপনার যাত্রা যেন হয়ে ওঠে আরও দীপ্তিময়, আরও সুরময়।
[