শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ দুই বাংলার গর্ব অভিনেত্রী জয়া আহসানের শুভ জন্মদিন

আজ দুই বাংলার গর্ব অভিনেত্রী জয়া আহসানের শুভ জন্মদিন

আজ দুই বাংলার গর্ব অভিনেত্রী জয়া আহসানের শুভ জন্মদিন


বয়স নয় গ্ল্যামার ও অভিনয়ে যিনি বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দর্শকদের মাত দিতে রেখেছেন তিনি হলেন ভার্সেটাইল অভিনেত্রী জয়া আহসান। অভিনয় দক্ষতা ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ দুই বাংলার দর্শক মহল। আজ জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর শুভ জন্মদিন। দেখতে দেখতে জীবনে ৪১টি বসন্ত পেরিয়ে আজ ৪৩-এ পা দিলেন তিনি।
শুভ জন্মদিন।  


জয়া আহসান একাধারে অভিনেত্রী, মডেল, গায়িকা, নৃত্যশিল্পী এবং সংগঠক। তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি গান, নাচ ও চিত্রাঙ্কনে দক্ষ এবং একটি সংগীত স্কুল পরিচালনা করেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও শৈল্পিক চর্চার সম্মিলনেই গড়ে উঠেছে তার বহুমাত্রিক শিল্পীসত্তা।

জয়া আহসান জন্মগ্রহণ করেন গোপালগঞ্জ জেলায়। তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা এ এস মাসউদ এবং মা রেহানা মাসউদ ছিলেন একজন শিক্ষিকা। তারা দুই বোন এক ভাই। অভিনয় শুরুর আগে জয়া নাচ ও গানের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি ছবি আঁকা শিখেছিলেন। তিনি একটি সংগীত স্কুলও পরিচালনা করেন।


জয়ার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ২০০৪ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ব্যাচেলর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। পরে দীর্ঘ ৬ বছর পর নুরুল আলম আতিক পরিচালিত ডুবসাঁতার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।


কখনো ‘ব্যাচেলর’র শায়লা, কখনো ‘গেরিলা’র বিলকিস বানু, আবার কখনো হুমায়ূন আহমেদের ‘দেবী’র রাণু। একের পর এক গল্পের চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়েছেন ভার্সাটাইল অভিনেত্রী জয়া আহসান।

নাটক-টেলিফিল্মে তার অভিনয় দেখে আমাদের বদ্ধমূল ধারণা হয়েছিল, তিনি ছোট পর্দায় নিজের প্রজন্মের সেরা অভিনেত্রী। তারপর তিনি বড় পর্দায় নিয়মিত হলেন, ছাড়লেন ছোট পর্দা। 'ডুবসাঁতার', 'খাঁচা' বা 'গেরিলা' দেখে আমরা বিশ্বাস করতে বাধ্য হলাম, তিনি বাংলাদেশেরই এই সময়ের সবচেয়ে প্রতিভাবান, এবং সবচেয়ে পরিশীলিত অভিনেত্রী। 
কিন্তু তিনি সেখানে থামলেন না। ডাক এলো ওপার বাংলা থেকে, অভিনয়ের নেশায় তিনি ছুটে গেলেন সেখানে। একটা-দুটো সিনেমা করলেন, সেখানকার নির্মাতারা নড়েচড়ে বসলেন। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া তরুণীর প্রতিভায় তারা মুগ্ধ, একের পর এক তাকে কাস্ট করা হতে লাগলো৷


কলকাতার অভিনেত্রীদের জায়গায় তিনি হয়ে উঠলেন সবার 'প্রথম পছন্দ'। সেই আস্থার প্রতিদানও তিনি দিলেন, দুর্দান্ত অভিনয়ের মাধ্যমে। জিতলেন ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার, তাও একাধিকবার। 
আমরা গৌরবে চিকচিক করা চোখজোড়া নিয়ে তার কাজ দেখি, তার অর্জন দেখি। সিনেমা করছেন৷ ওয়েব সিরিজ করছেন, কলকাতার মানুষজনও তাকে নিয়ে গর্ব করে এখন। একটু আক্ষেপও হয়, এই জয়া আহসানকে যদি এমন দারুণ সব গল্প আর চরিত্র আমাদের নির্মাতারাই দিতে পারতেন, তাহলে এদেশিয় সিনেমাতেও তাকে নিয়মিত দেখা যেতো হয়তো। এই বাংলার একটা মেয়ে, সীমান্তের ওপাশে, ওই বাংলায় গিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নিজের অভিনয়গুণে- এই তৃপ্তিটা আমাদের এনে দিয়েছেন যে মানুষটি, তার নাম জয়া আহসান।


জয়া অভিনীত চলচ্চিত্র সমূহঃ 'ব্যাচেলর', 'ডুবসাঁতার', 'ফিরে এসো বেহুলা', 'গেরিলা', 'আবর্ত', 'চোরাবালি', 'পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী', 'জিরো ডিগ্রী', 'একটি বাঙালি ভূতের গপ্পো', 'রাজকাহিনী', 'পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনি ২', 'ঈগলের চোখ', 'ভালোবাসার শহর', 'বিসর্জন', 'খাঁচা', 'ক্রিসক্রস', 'পুত্র', 'দেবী', 'বিজয়া', 'কণ্ঠ', 'মেসিডোনা', 'অর্ধাঙ্গিনী', 'বিউটি সার্কাস'।
অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পাঁচটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, সাতটি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ও তিনটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন।


এছাড়া 'এনেছি সূর্যের হাসি' ধারাবাহিক নাটকে অভিনয়ের পর জয়া জাতিসংঘের নারী ও শিশু সহায়তা বিভাগের শুভেচ্ছা দূত হন। ২০১৬ সালে তিনি চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ইন্সপায়ারিং ওমেন অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে জয়া ছিলেন মডেল ও অভিনেতা ফয়সাল আহসানের সহধর্মিনী। ১৪ মে ১৯৯৮ সালে বিয়ে করেন। ২০১১ সালে ফয়সালের সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।
ছোট পর্দায় জয়া ছিলেন প্রজন্মসেরা, আর বড় পর্দায় হয়েছেন সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী। কাঁটাতারের এপারে জন্ম নেওয়া এই নারী, ওপারে গিয়ে অভিনয় দিয়ে জয় করেছেন কোটি মন। আমরা গর্ব করি, আমাদের দেশের মেয়েটি আজ দুই বাংলার অন্যতম প্রধান মুখ। 
আরো বহু বছর তোমার শিল্পসাধনা ছুঁয়ে যাক আমাদের হৃদয়কে।