জয়গুনকে মনে পড়ে? জীবনযুদ্ধে লড়াকু নারী জয়গুন।‘সূর্য দীঘল বাড়ী’র জয়গুন! চলচ্চিত্র ক্যামেরা বন্ধ হলে যাঁকে সবাই 'ডলি' নামে ডাকতেন।
ডলির আসল নাম পিয়ারা ইব্রাহিম। তাঁর বাবা মোহাম্মদ ইব্রাহিম এবং মা ড. নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য অধ্যাপিকা।
ডলি আনোয়ারের চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ দিয়ে। সেটার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি।
মসিহউদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলী নির্মিত ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’-তে অভিনয়ের জন্য ১৯৭৯ সালে তিনি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ নারী অভিনয় শিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
ডলির যাত্রা নাতিদীর্ঘ। তাঁর দ্বিতীয় ও শেষ অভিনীত ছবি ‘দহন’। ১৯৮৬ সালে শেখ নিয়ামত আলী নির্মিত ‘দহন’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয় করেছিলেন তিনি।
ডলি আনোয়ার ১৯৪৮ সালের আজকের দিনে (১ জুলাই) যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের প্রখ্যাত নারীনেত্রী ও লেখক ড. নীলিমা ইব্রাহিম এবং প্রখ্যাত চিকিৎসক ও বারডেমের প্রতিষ্ঠাতা ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিমের মেয়ে তিনি। ডলি আনোয়ারের আসল নাম পিয়ারা ইব্রাহিম হলেও অভিনয় জগতে তিনি ডলি আনোয়ার নামেই পরিচিতি। ডলি পড়াশোনা করেছেন বরিশাল, খুলনা এবং ঢাকার বাংলাবাজার গার্লস হাইস্কুল, পুরানা পল্টন কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
কৈশোর থেকেই তাঁর সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ জন্মে এবং অভিনয় করার জন্য ১৩ বছর বয়সে রঙ্গম নাট্যগোষ্ঠীতে যোগ দিয়ে 'চরিত্রহীন' নাটকে অভিনয় করেন। বেতারে প্রচারিত প্রথম নাটকে অংশগ্রহণ করেন ১৯৬৩ সালে আর টেলিভিশন নাটকে ১৯৬৫ সালে।
ডলি বেতার ও টিভিতে অভিনয় করে একজন অসাধারণ শিল্পীর মর্যাদা লাভ করেন। অভিনয়ের জন্য তিনি চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির পুরস্কার ও ফটোগ্রাফিতে জাতিসংঘের ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন ১৯৮৭ সালে। ডলি 'সাতদিন' নামে একটি সাপ্তাহিকীও সম্পাদনা করেন।
১৯৮৬ সালে অভিনয় করেন শেখ নিয়ামত আলী পরিচালিত রাষ্ট্রীয় অনুদানে নির্মিত 'দহন' চলচ্চিত্রে। এ ছাড়াও ডলি আনোয়ার অভিনীত 'হুলিয়া' চলচ্চিত্রটি ১৯৮৯ সালে মুক্তি পায়।
বাংলাদেশের কিংবদন্তি আলোকচিত্রী এবং প্রখ্যাত সিনেমাটোগ্রাফার আনোয়ার হোসেন-এর সাথে ১৯৭৯ সালে 'সূর্য দীঘল বাড়ি' চলচ্চিত্র তৈরির সময় ডলি ইব্রাহিমের পরিচয় হয় এবং ঐ বছরই তাঁরা বিয়ে করেন। পরিবার, সম্পদ, যশ, খ্যাতির কমতি ছিল না। তবুও ১৯৯১ সালের ৩ জুলাই মাসে ডলি আনোয়ার বিষপান করে আত্মহত্যা করেন। আনোয়ার হোসেন তখন তার পাশে ছিলেন না। আত্মহত্যার পর নানা রকম গুজব শোনা যায়। বলা হয়, ডলি আনোয়ারের স্বামী আনোয়ার হোসেন তাকে তালাকনামা প্রেরণ করেন যা সহ্য করতে না পেরে ডলি আনোয়ার বিষপান করেন। এই গুজবের কোন সত্যতা প্রমাণিত হয় নি, ফলে
আরও অনেকের মতই ডলি আনোয়ারের এই মৃত্যু রহস্যই থেকে যায়।
তিনি চাইলেই হয়ত অনেক ছবিতে কাজ করতে পারতেন। দীর্ঘ জীবন বাঁচা হয়নি ডলির। ক্ষণজন্মা এই অভিনেত্রী মাত্র ৪৩ বছর বয়সে পৃথিবীকে বিদায় জানান। মৃত্যুর পর তাকে ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধজীবী কবরস্থান-এ দাফন করা হয়।