গাইবান্ধার সদর উপজেলার তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. নোবেল মিয়াকে (২০) ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে র্যাব-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতারকৃত নোবেল মিয়া জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের আবদুর রহিম মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী স্থানীয় কোমারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা-মা জীবিকার জন্য ঢাকায় থাকায় সে গ্রামের বাড়িতে দাদা-দাদির সঙ্গে থাকত। একই গ্রামের বাসিন্দা নোবেল তার নানার বাড়িতে থাকত। শিশুটি নোবেলের ১২ বছর বয়সী বোনের সঙ্গে খেলাধুলা করতে তাদের বাড়িতে যেত।
গত ৮ জুন বিকেল ৫টার দিকে খেলাধুলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নোবেল ও তার সহযোগী তারেক শিশুটিকে জোর করে একটি নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে তারা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে তারা পালিয়ে যায়।
পরে শিশুটি কোনোমতে বাড়ি ফিরলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এই ঘটনায় শিশুটির মা হাসিনা খাতুন গত ১৬ জুন গাইবান্ধা সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপন করেছে।
র্যাব আরও জানায়, মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (৫ জুলাই) রাতে র্যাব-১৩, সিপিসি-৩ (গাইবান্ধা) এবং র্যাব-৪, সিপিসি-১ (মিরপুর) এর যৌথ অভিযানে ঢাকার দারুসসালাম থানার মিরবাড়ি আদি জামে মসজিদ এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত নোবেলকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য গাইবান্ধা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই মামলার অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
