বগুড়া শহরের যানজট নিরসন, ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং নগরবাসীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে নবগঠিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশন। অভিযানে শহরের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ এবং খাদ্য নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত শহরের সাতমাথা, থানা মোড়, সেলিম হোটেল এলাকা, কাঁঠালতলা, রাজাবাজার, ফতেহ আলী ব্রিজ, গালাপট্টি ও হোটেলপট্টিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের সচিব ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. পপি খাতুন।
অভিযানে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকান, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়। সিটি কর্পোরেশন জানায়, পূর্বে মাইকিং করে দখলদারদের একাধিকবার স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও অনেকেই তা মানেননি। ফলে বাধ্য হয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং মালামাল জব্দ করা হয়।
সাতমাথা, থানা মোড়, সেলিম হোটেল এলাকা ও ফতেহ আলী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার ওপর স্থাপিত বিভিন্ন অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে জব্দকৃত মালামাল সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ফতেহ আলী ব্রিজ এলাকার প্রিয়াঙ্কা দই ঘর-এ ফ্রিজে বাসি ও পচা রসমালাই সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়ায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ফতেহ আলী ফুড গার্ডেন-এ বাসি খাবার সংরক্ষণের দায়ে ৫ হাজার টাকা এবং কাফেলা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট-এ একই অপরাধে আরও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. পপি খাতুন সাংবাদিকদের জানান, অভিযানে জব্দ হওয়া ভক্ষণযোগ্য কাঁচা সবজি ও ফলমূল নষ্ট না করে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। তবে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও পচা খাদ্যদ্রব্য তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়।
তিনি বলেন, বগুড়া শহরকে যানজটমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে। অবৈধ দখল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশনের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে শহরের যানজট, ফুটপাত দখল এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বিক্রির মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। একই সঙ্গে নগরবাসীও এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
শাকিল রানা,
বগুড়া প্রতিনিধি :
