শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমারের মৃত্যুবার্ষিকী

আজ কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমারের মৃত্যুবার্ষিকী

আজ কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমারের মৃত্যুবার্ষিকী

হিন্দি সিনেমার জগতে এই কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার নামে পরিচিত হলেও তার প্রকৃত নাম মুহাম্মদ ইউসুফ খান। একজন ক্যান্টিন বয় ও ফলের ব্যবসায়ি থেকে হয়ে উঠেছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত অভিনেতা।


তাকে ভারতীয় উপমহাদেশে চলচ্চিত্রের "ট্রাজেডি কিং" নামে সুপরিচিত, এবং সত্যজিৎ রায়ের মতন কিংবদন্তি বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাতার মতে সর্বশেষ তিনি ছিলেন রচনাশৈলী একজন গুণী অভিনেতা। তিনি ১৯৪৪ সালে "বোম্বে টকিজের" ব্যানারে "জোয়ার ভাটা" চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পে পদার্পণ করেন। তিনি চলচ্চিত্র শিল্প ছয় দশকের অধিক সময় ধরে বিচরণ করেছেন এবং অভিনয় করেছেন ৬০টির বেশি ছায়াছবিতে। তিনি বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্রময় ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।

 

এ গুণী অভিনেতা ভারতীয় জাতীয় পুরস্কার সহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন তার কর্মময় জীবনের জন্য।

দিলীপ কুমার
(১১ ডিসেম্বর, ১৯২২ - ৭ জুলাই, ২০২১)
------------------------------------------------------------
দিলীপ কুমার  ১১ ডিসেম্বর ১৯২২ সালে অবিভক্ত ভারতের পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা লালা গোলাম সারওয়ার একজন ফলের ব্যবসায়ী ছিলেন যিনি পেশোয়ার ও দেওলালীর মধ্যে ফলের বাগানের মালিক। তার মাতার নাম আয়েশা বেগম। দিলীপ কুমার নাসিকের কাছাকাছি মর্যাদাপূর্ণ দেওলিয়ার বার্নস স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু করেন।

 

১৯৩০ সালে শেষ সময়ে, ১২ সদস্যর পরিবার নিয়ে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান। ১৯৪০ সালে দিলীপ কুমার পুনে বাড়ি ছাড়েন যেখানে তিনি ব্রিটিশ সৈন্যদের জন্য পরিচালিত একটি ক্যান্টিনে কাজ নেন। একজন ক্যান্টিন মালিক এবং একজন শুষ্ক ফল সরবরাহকারী হিসাবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। 
১৯৪৩ সালে আওধ মিলিটারি ক্যান্টিনে তার পরিচয় হয় সে সময়ের প্রখ্যাত নায়িকা এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা দেবিকা রানীর সঙ্গে। দেবিকা রানী ছিলেন বোম্বে টকিজের এক মালিক। বোম্বে টকিজের পরবর্তী সিনেমা ‘জোয়ার ভাটা’ মুক্তি পেল ১৯৪৪ সালে। আর এই ছবির মাধ্যমেই রুপালি পর্দায় আবির্ভাব ঘটে দিলীপ কুমারের।
তার প্রকৃত নাম ইউসুফ খান হলেও পর্দায় হয়ে উঠলেন দিলীপ কুমার তার পিছনে রয়েছে এক গল্প। রক্ষণশীল পরিবারের সন্তান তিনি। বাবাকে যমের মতো ভয় পেতেন। ছেলে সিনেমায় নেমেছে জানতে পারলে বাবা আস্ত রাখবেন না। ইউসুফ চাচ্ছিলেন আগে চলচ্চিত্রে শক্ত অবস্থান গড়ে তারপর সাহস করে বাবাকে কথাটি জানাবেন। তাই এই নাম বদল। তার এই নাম দেন হিন্দিভাষী লেখক ভগবতীচরণ ভার্মা। আবার এটাও বিশ্বাস করা হয় যে দিলীপ কুমার বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতে পারেন; যেমন: ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু এবং পুশতু ভাষা।

 

১৯৬০ সালে মুক্তি পায় ইতিহাস সৃষ্টিকারী ছবি ‘মুঘল-ই-আজম’। কে. আসিফের এই ঐতিহাসিক ছবিতে শাহজাদা সেলিম ছিলেন দিলীপ কুমার, মধুবালা ছিলেন আনারকলি এবং সম্রাট আকবরের ভূমিকায় ছিলেন পৃত্থিরাজ কাপুর। বলিউডের একশ’ বছরের ইতিহাসে অন্যতম সেরা সিনেমা বলা হয় একে।
মজার বিষয় হলো পুরো ক্যারিয়ারে দিলীপ কুমার মাত্র একবার মুসলিম চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং সেটি হলো "মুঘল-ই-আযম"।
দিলীপ কুমার ভারত ও পাকিস্তানের মানুষদের কাছাকাছি একসাথে আনার প্রচেষ্টায় সক্রিয় ছিলেন। তিনি রাজ্যসভার একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন।


তাকে ১৯৯৪ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। ১৯৯৮ সালে তাকে পাকিস্তানের সরকার দ্বারা প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার নিশান-ই-ইমতিয়াজ প্রদান করা হয়। তিনি দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে এই পুরস্কার লাভ করেন। কারগিল যুদ্ধের সময়, শিব সেনা প্রধান বাল ঠাকরে বলেন, "ভারতীয় মাটির উপর যে দেশের ভয়ানক আগ্রাসন উদ্ধৃত" তাই দিলীপ কুমার তার নিশান-ই-ইমতিয়াজ পুরস্কার ফেরত দেওয়ার দাবি করেন।  দিলীপ কুমার এটির প্রত্যাখ্যান করে যা বলেন তা হলো ‌-


এই পুরস্কার মানবিক কার্যক্রম জন্য আমাকে দেওয়া হয়েছে, যা আমার নিজের জন্য নিবেদিত। আমি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও সাম্প্রদায়িক ফাঁক দুর করে বহু বছর ধরে সেতুবন্ধনের জন্য কাজ করেছি, দরিদ্রের সাহায্যের জন্য কাজ করেছি। রাজনীতি এবং ধর্ম এই গণ্ডি তৈরি করেছে। আমি দুই দেশকে একত্রিত করার জন্য সংগ্রাম করছি যাই হোক না কেন আমি করতে পারি। আমাকে বলুন, কারগিল সংঘাতের সাথে এর কোন সম্পর্ক আছে?
তিনি আজকের এই দিনে ৭ জুলাই ২০২১ সালে ৯৮ বছর বয়সে ভারতের মুম্বাইয়ে মৃত্যুবরণ। 
তার মৃত্যু দিবসে শ্রদ্ধা।