শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ স্বর্ণযুগের কিংবদন্তি অভিনেত্রী রানী সরকারের মৃত্যুবার্ষিকী

আজ স্বর্ণযুগের কিংবদন্তি অভিনেত্রী রানী সরকারের মৃত্যুবার্ষিকী

আজ স্বর্ণযুগের কিংবদন্তি অভিনেত্রী রানী সরকারের মৃত্যুবার্ষিকী

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, বরেণ্য অভিনেত্রী রানী সরকার-এর প্রয়াণ দিবসে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র স্মরণ।
রানী সরকারের প্রকৃত নাম ছিল মোসাম্মৎ আমিরুন নেসা খানম। শৈশবের ডাকনাম ছিল ‘মেরী’। চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ওবায়দুল হক সরকার-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তিনি ‘রানী সরকার’ নামেই পরিচিতি লাভ করেন এবং এই নামেই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্থায়ী আসন করে নেন।


তিনি ১৯৩১ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৩২ সালও উল্লেখ রয়েছে) বর্তমান সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার সোনাতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সোলেমান মোল্লা এবং মাতা আছিয়া খাতুন। শৈশবের শিক্ষা শুরু হয় সোনাতলা ইউনিয়ন স্কুলে। পরে খুলনা করোনেশন গার্লস স্কুল থেকে মাধ্যমিক (ম্যাট্রিক) পাস করেন।
১৯৫৮ সালে মঞ্চনাটক ‘বঙ্গের বর্গী’-এর মাধ্যমে অভিনয়জগতে পদার্পণ করেন। একই বছর এ. জে. কারদার পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘দূর হ্যায় সুখ কা গাঁও’-এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তাঁর। এরপর ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন পূর্ব পাকিস্তান এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য অভিনেত্রী।


১৯৬২ সালে কিংবদন্তি নির্মাতা এহতেশাম পরিচালিত ‘চান্দা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। এরপর দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে তিনি দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে—
‘চান্দা’, ‘তালাশ’, ‘নতুন সুর’, ‘সঙ্গম’, ‘সুতরাং’, ‘বেহুলা’, ‘আনোয়ারা’, ‘বন্ধন’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌল্লাহ’, ‘ঘর ভাঙা ঘর’, ‘কে তুমি’, ‘মলুয়া’, ‘অরুণ বরুণ কিরণমালা’, ‘ছদ্মবেশী’, ‘রেশমি চুড়ি’, ‘নোলক’, ‘ভানুমতি’, ‘টাকার খেলা’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘অবুঝ বউ’, ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’, ‘একই বৃত্তে’—সহ প্রায় ২৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্র।

চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয়ের বৈশিষ্ট্য ছিল সাবলীলতা, সংযত অভিব্যক্তি এবং চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করার অসাধারণ ক্ষমতা। নায়িকা থেকে মা, ভাবি, খালা কিংবা চরিত্রাভিনেত্রী—প্রতিটি ভূমিকায় তিনি রেখে গেছেন স্বকীয়তার স্বাক্ষর। তাই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি আজও এক অনন্য নাম।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা প্রদান করে।

জীবনের শেষ সময় ছিল বেশ কষ্টকর। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগতে ভুগতে আর্থিক সংকটের মধ্যেই কাটাতে হয়েছিল জীবনের শেষ অধ্যায়। অবশেষে ২০১৮ সালের ৭ জুলাই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্র অঙ্গন হারায় এক কিংবদন্তি শিল্পীকে।
আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি এই গুণী অভিনেত্রীকে। তাঁর অভিনয়, নিষ্ঠা ও শিল্পসাধনা বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি, রানী সরকার।
আপনার শিল্পকর্ম বেঁচে থাকবে বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতিটি স্বর্ণালী অধ্যায়ে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।