কিশোরগঞ্জের নিকলী থানা হাজত থেকে রুবেল মিয়া (৩০) নামের এক মাদক মামলার আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ পরেই হাজতখানার গ্রিলের সাথে শার্ট পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত রুবেল উপজেলার কারাপাশা ইউনিয়নের শহরমূল এলাকার বাসিন্দা রাজা হাওলাদারের একমাত্র ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে মাদকাসক্ত রুবেল পরিবারের সদস্যদের উপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। অতিষ্ঠ হয়ে ছেলে কে ভালো করার জন্য ও সংশোধনের আশায় বাবা রাজা হাওলাদার আদালতে মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী হলে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ তাকে নিজ বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। এর আগেও তিন মাস জেল খাটলেও রুবেলের কোন পরিবর্তন হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাবার মামলাতেই গ্রেপ্তার হয়ে তাকে কারাগারে যেতে হচ্ছে এটা সম্ভবত মেনে নিতে না পেরেই হাজতে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে সকালে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে থানায় এনে হাজতে রাখা হয়। পুলিশ তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হাজতখানায় তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নিজের পরিহিত শার্টের হাত গ্রিলের সাথে পেঁচিয়ে তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত রুবেলের বাবা রাজা হাওলাদার আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ছেলেকে মাদকের অন্ধকার পথ থেকে ফেরাতে এবং সংশোধনের আশায় বাধ্য হয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে থানা থেকে বাড়ী ফেরার পথে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ শুনে তারা হতবাক হয়ে পড়েন।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিকলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
প্রতিবেদক: মো: রেজুয়ানুল হক
-1783661019.jpg)