শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা দিলদার হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী

আজ বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা দিলদার হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী

আজ বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা দিলদার হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কৌতুক অভিনয়ের অনন্য এক নাম—দিলদার। দর্শকের হাসি ও আনন্দের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই শিল্পী প্রায় চার দশক ধরে ছড়িয়েছেন অভিনয়ের আলো।


১৯৭৫ সালে ‘কেন এমন হয়’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক, এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। হাস্যরসের নিজস্ব ধারা তৈরি করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সিনেমার কৌতুক অভিনেতার সমার্থক এক নাম। তাঁর অভিনয় ছিল সহজ, সাবলীল এবং বাস্তবতা ঘেঁষা। বাচিক অভিনয় ও শরীরী অভিব্যক্তির মিশেলে গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব স্টাইল—যা আজও ভোলেনি দর্শক।

দর্শকের চাহিদা ও প্রযোজকের আস্থার নাম ছিলেন দিলদার। এমনকি তাঁর জনপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে ছিল যে, তাঁকে নায়ক করেই নির্মাণ হয়েছিল ‘আব্দুল্লাহ’ চলচ্চিত্র। কেবল তিনিই ছিলেন এমন একজন কৌতুক অভিনেতা, যার জন্য আলাদা গল্প লেখা হতো, আলাদা করে প্রচার চালানো হতো।
তাঁর ক্যারিয়ারে রয়েছে ৫০০’র অধিক চলচ্চিত্র,

যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
আব্দুল্লাহ, বেদের মেয়ে জোসনা, বীর পুরুষ, স্বপ্নের পৃথিবী, আশা ভালোবাসা, জীবন সঙ্গিনী প্রভৃতি।
২০০৩ সালে ‘তুমি শুধু আমার’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে।

জন্মেছিলেন চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার শাহতলী গ্রামে, ১৯৪৫ সালের ১৩ জানুয়ারি। মা-বাবা তাঁর নাম রেখেছিলেন দেলোয়ার হোসেন, তবে চলচ্চিত্রে আসার সময় নাম পরিবর্তন করে গ্রহণ করেন ‘দিলদার হোসেন’। পরে ‘দিলদার’ নামেই তিনি হয়ে ওঠেন অগণিত দর্শকের প্রিয় মানুষ।

ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন একজন নিরহংকারী, সজ্জন ও অমায়িক মানুষ। তাঁর স্ত্রী রোকেয়া বেগম এবং তাঁদের এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।
২০০৩ সালের ১৩ জুলাই মাত্র ৫৮ বছর বয়সে এই প্রিয় মুখটি চলে যান না-ফেরার দেশে। কিন্তু রেখে গেছেন অগণিত হাসি-কান্নার স্মৃতি।
আজও বাংলা চলচ্চিত্রের কৌতুকভুবনে তাঁর শূন্যতা পূরণ হয়নি। তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন দর্শক হৃদয়ে।
চিরস্মরণীয় শিল্পী দিলদারকে আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।