বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কৌতুক অভিনয়ের অনন্য এক নাম—দিলদার। দর্শকের হাসি ও আনন্দের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই শিল্পী প্রায় চার দশক ধরে ছড়িয়েছেন অভিনয়ের আলো।
১৯৭৫ সালে ‘কেন এমন হয়’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক, এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। হাস্যরসের নিজস্ব ধারা তৈরি করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সিনেমার কৌতুক অভিনেতার সমার্থক এক নাম। তাঁর অভিনয় ছিল সহজ, সাবলীল এবং বাস্তবতা ঘেঁষা। বাচিক অভিনয় ও শরীরী অভিব্যক্তির মিশেলে গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব স্টাইল—যা আজও ভোলেনি দর্শক।
দর্শকের চাহিদা ও প্রযোজকের আস্থার নাম ছিলেন দিলদার। এমনকি তাঁর জনপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে ছিল যে, তাঁকে নায়ক করেই নির্মাণ হয়েছিল ‘আব্দুল্লাহ’ চলচ্চিত্র। কেবল তিনিই ছিলেন এমন একজন কৌতুক অভিনেতা, যার জন্য আলাদা গল্প লেখা হতো, আলাদা করে প্রচার চালানো হতো।
তাঁর ক্যারিয়ারে রয়েছে ৫০০’র অধিক চলচ্চিত্র,
যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
আব্দুল্লাহ, বেদের মেয়ে জোসনা, বীর পুরুষ, স্বপ্নের পৃথিবী, আশা ভালোবাসা, জীবন সঙ্গিনী প্রভৃতি।
২০০৩ সালে ‘তুমি শুধু আমার’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে।
জন্মেছিলেন চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার শাহতলী গ্রামে, ১৯৪৫ সালের ১৩ জানুয়ারি। মা-বাবা তাঁর নাম রেখেছিলেন দেলোয়ার হোসেন, তবে চলচ্চিত্রে আসার সময় নাম পরিবর্তন করে গ্রহণ করেন ‘দিলদার হোসেন’। পরে ‘দিলদার’ নামেই তিনি হয়ে ওঠেন অগণিত দর্শকের প্রিয় মানুষ।
ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন একজন নিরহংকারী, সজ্জন ও অমায়িক মানুষ। তাঁর স্ত্রী রোকেয়া বেগম এবং তাঁদের এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।
২০০৩ সালের ১৩ জুলাই মাত্র ৫৮ বছর বয়সে এই প্রিয় মুখটি চলে যান না-ফেরার দেশে। কিন্তু রেখে গেছেন অগণিত হাসি-কান্নার স্মৃতি।
আজও বাংলা চলচ্চিত্রের কৌতুকভুবনে তাঁর শূন্যতা পূরণ হয়নি। তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন দর্শক হৃদয়ে।
চিরস্মরণীয় শিল্পী দিলদারকে আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।