মঞ্চ, টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী, লেখিকা ও আবৃত্তিশিল্পী শিরীন বকুলকে জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
শিক্ষা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা সাহিত্য বিভাগ
তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়ই হয়েছে। শিরীন বকুলের অভিনয় জীবন শুরু হয় ১৯৮৫ সালে ‘থিয়েটার (তোপখানা)’ নাট্যদলের মাধ্যমে। ১৯৮৬ সালে তারিক আনাম খানের নির্দেশনায় ‘পালাবদল’ নাটকে প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন তিনি। এরপর তিনি ‘যুদ্ধ এবং যুদ্ধ’, ‘তোমরাই’, ‘বিষ রক্ষার ছুরি’সহ অসংখ্য নাটকে অভিনয় করে মঞ্চে দশকব্যাপী দাপট দেখান। পরবর্তীতে ‘আরণ্যক’ ও ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’ নাট্যদলের সঙ্গেও যুক্ত হন।
টেলিভিশনে শিরীন বকুল আলোচনায় আসেন নজিবুর রহমান সাহিত্যরত্নের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘আনোয়ারা’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে। এরপর ‘গ্রন্থিকগণ কহে’, আব্দুল্লাহ আল মামুনের ‘সংশপ্তক’, আলাউদ্দিন আহমেদের ‘বারো রকমের মানুষ’সহ বহু ধারাবাহিকে তিনি প্রশংসিত হন।
চলচ্চিত্রেও তাঁর সরব উপস্থিতি রয়েছে। জয়নাল আবেদীনের ‘শত্রু শত্রু খেলা’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। এরপর চাষী নজরুল ইসলামের ‘রঙিন দেবদাস’, দেবাশীষ বিশ্বাসের ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’সহ বেশ কিছু ছবিতে তিনি অভিনয় করেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি শিরীন বকুল একজন সফল লেখিকাও। কলেজে পড়ার সময় স্বরচিত কবিতা লিখে প্রথম পুরস্কার পান। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১২টি, যার বেশিরভাগই শিশু-কিশোর সাহিত্য। তাঁর লেখায় যেমন আছে কোমল আবেগ, তেমনি আছে জীবনঘনিষ্ঠ বর্ণনা।
তিনি একজন দক্ষ আবৃত্তিকারও। ‘কণ্ঠশীলন’ থেকে আবৃত্তির প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেই গড়ে তোলেন ‘স্বঋত’ নামের একটি আবৃত্তি সংগঠন। তাঁর কণ্ঠে আবৃত্তি করা “তোমাকে ভুলতে ভুলে যাই” শিরোনামের একটি দ্বৈত আবৃত্তির অ্যালবামও প্রকাশিত হয়েছে।
পারিবারিক জীবন:
শিরীন বকুলের স্বামী আহমাদ মাযহার একজন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও শিশুসাহিত্যিক এবং চ্যানেল আই-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের একমাত্র সন্তান সুদীপ্ত প্রিয়দর্শন। ২০১৭ সালে তাঁরা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চলে যান এবং বর্তমানে সেখানেই বসবাস করছেন।
দীর্ঘ অভিনয়জীবন, সাহিত্যে অনুরাগ এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে অঙ্গীকারবদ্ধ এই অসাধারণ নারীর প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
শুভ জন্মদিন শিরীন বকুল!
আপনার আগামী দিনগুলো আরও সুন্দর, সৃজনশীল এবং সাফল্যমণ্ডিত হোক — এই কামনায়।