বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৬, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চিনাইর বাজারের সরকারি ঘাটলায় দোকান নির্মাণের আবেদন ঘিরে বিতর্ক

চিনাইর বাজারের সরকারি ঘাটলায় দোকান নির্মাণের আবেদন ঘিরে বিতর্ক

চিনাইর বাজারের সরকারি ঘাটলায় দোকান নির্মাণের আবেদন ঘিরে বিতর্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চিনাইর বাজারে জনসাধারণের ব্যবহৃত একটি সরকারি পাকা ঘাটলার স্থানে দোকানঘর নির্মাণের জন্য সরকারি খাস জমি বরাদ্দের আবেদনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ১৩ নম্বর মাছিহাতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ছায়েদুল হক গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সরকারি খাস জমি বরাদ্দের আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত একজন অসহায় বিএনপি নেতা এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে একটি পরিত্যক্ত সিঁড়ি রয়েছে। তাই সেখানে দোকানঘর নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ চেয়েছেন।

তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, আবেদনকারী অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপিতে যোগ দেন। তাদের আরও অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি বাজারে দুটি দোকানের মালিক হন এবং পরে বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির অনুমোদন লাভ করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আবেদনকারীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আবেদনে নিজেকে অসহায় হিসেবে উপস্থাপন করলেও বাস্তবে তিনি নিজস্ব তিনতলা ডুপ্লেক্স বাড়িতে বসবাস করেন, ঢাকায় তার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং তার এক ছেলে ইউরোপে কর্মরত। এ অবস্থায় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে আবেদনকারীর দাবিকে সত্য উল্লেখ করে দোকানঘর নির্মাণের জন্য সরকারি খাস জমি বরাদ্দের সুপারিশ করায় প্রশ্ন উঠেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে চিনাইর বাজার কমিটির সদস্যরা এন্টার টিভির প্রতিনিধিদের কে জানান, "আবেদনের বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত নই। তবে জায়গাটিতে বিএনপি সরকারের সময় প্রয়াত অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ এমপির উদ্যোগে একটি পাকা ঘাটলা নির্মাণ করা হয়েছিল, যা এখনও সচল রয়েছে। সেখানে দোকান নির্মাণের প্রশ্নই আসে না। হাইব্রিড নেতাদের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।"

স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চিনাইর-চাপুইর সড়কের পূর্ব পাশে বাজারের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত পাকা ঘাটলাটি দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণ ব্যবহার করে আসছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে মাছবাহী নৌকা ভিড়ানো, মালামাল ওঠানামা এবং ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন কাজে ঘাটলাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর আশঙ্কা, ঘাটলাটি অপসারণ করে সেখানে দোকান নির্মাণ করা হলে বাজারের ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহনে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি হবে। তাই তারা ঘাটলাটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে এর স্থানে কোনো স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে আবেদনকারী মো. ছায়েদুল হক এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।