নব্বই দশকের ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও ব্যস্ত অভিনেত্রী নাসরিন। চমৎকার নৃত্যশৈলী, গ্ল্যামার আর কৌতুক দৃশ্যে স্বচ্ছন্দ উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি দর্শকমনে বিশেষ স্থান করে নেন। তবে ক্যারিয়ারের সোনালি সময়ে কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা দিলদারের সঙ্গে তার সফল জুটিই পরবর্তীকালে তার মূলধারার নায়িকা হওয়ার পথে অদৃশ্য এক দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সম্প্রতি সেই অজানা অধ্যায় নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।
কৌতুকসম্রাট দিলদারের বিপরীতে অভিনয় করে যখন তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি পান, ঠিক তখনই অন্যান্য প্রথম সারির নায়ক ও পরিচালকদের মানসিকতায় পরিবর্তন আসে বলে জানান নাসরিন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “দিলদার ভাইয়ের সাথে কাজ করে পরিচিতি পাওয়ার পর অন্য নায়করা আর আমার সাথে কাজ করতে চাইত না। পরিচালকরাও ভয় পেতেন, তারা ভাবতেন আমি শুধু দিলদারেরই নায়িকা।”
সে সময়ের মূলধারার নায়কদের ধারণা ছিল দিলদারের নায়িকা হিসেবে পরিচিত কোনো অভিনেত্রীর বিপরীতে অভিনয় করলে নিজেদের ‘তারকাখ্যাতি’ ও ‘মান’ কমে যাবে। ফলে নাসরিনের মূল নায়িকা হওয়ার যোগ্যতা ও ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাকে মূলধারার কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। বাধ্য হয়েই তাকে আইটেম গান, নাচ কিংবা পার্শ্বচরিত্রে নিয়মিত হতে হয়েছিল বলেও জানান নাসরিন।
তৎকালীন সহশিল্পীদের এমন ব্যবহারে মনে কষ্ট থাকলেও, দীর্ঘ সময়ের পথচলায় সেই অভিমান আজ পরিপক্বতায় রূপ নিয়েছে। জীবনের এই পর্যায়ে পুরো বিষয়টি আর নেতিবাচকভাবে দেখেন না নাসরিন।
মনস্তাত্ত্বিক সেই পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে নাসরিন বলেন, “তখন একরকম চিন্তা করতাম। কিন্তু এখন বয়স হয়েছে, ম্যাচিউরিটি এসেছে। এখন যখন চিন্তা করি, তখন বুঝি—আমিও তো নিজের ভালোর জন্য অনেক কিছু এড়িয়ে চলি। তারাও হয়তো তাদের ক্যারিয়ারের দিক বিবেচনা করেই তেমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।”
ঢালিউডের বাণিজ্যিক ঘরানার চলচ্চিত্রের বর্ণিল এক সময়কে সমৃদ্ধ করা নাসরিন শত প্রতিকূলতার মাঝেও নিজের একক পরিচিতি তৈরি করেছিলেন। জীবনের এই পর্যায়ে পুরোনো দিনের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতাকে ক্ষোভ নয়, বরং ইতিবাচক বাস্তবতার চোখেই দেখছেন এই অভিনেত্রী