ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অনন্য প্রতিভা শ্রী আম্মা ইয়াঙ্গের আয়্যাপান, সবার কাছে পরিচিত শ্রীদেবী নামে, জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬৩ সালের ১৩ আগস্ট তামিলনাড়ুতে। বাবা ছিলেন একজন আইনজীবী। ১৯৯৬ সালে তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজক বনি কাপুরকে বিয়ে করেন। তাদের দুই কন্যা জাহ্নবী ও খুশি।
মাত্র ৪ বছর বয়সে তামিল চলচ্চিত্র কন্ধন করুণাই (১৯৬৭)-তে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু। ১৯৭২ সালে রানি মেরা নাম চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় আত্মপ্রকাশ। ১৯৭৯ সালের সোলভা সাওয়ান ছিল তার প্রথম হিন্দি নায়িকা চরিত্রের ছবি।
১৯৮৩ সালে হিম্মতওয়ালা মুক্তির পর শ্রীদেবী বলিউডের শীর্ষ নায়িকাদের সারিতে উঠে আসেন। ন্যায়নোঁ মেঁ সাপনা গান ও তাঁর নাচ তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৮৩ সালের সাদমা তাঁকে এনে দেয় সমালোচকদের বিশেষ প্রশংসা। ফিল্মফেয়ার তাঁকে তখন অভিহিত করে— “প্রশ্নাতীতভাবে নং ১”।
জিতেন্দ্রর সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল ব্লকবাস্টার হিটের নিশ্চয়তা— ১৬টি ছবির মধ্যে ১৩টি সুপারহিট, যেমন হিম্মতওয়ালা, মাওয়ালী, অউলাদ। রাজেশ খান্নার সঙ্গে নয়া কদম, মকসদ, নজরানাও বক্স অফিসে সফল হয়।
১৯৮৬ সালের নাগিনা-য় তিনি “ইচ্ছাধারী নাগিন” চরিত্রে অভিনয় করে রূপালি পর্দায় এক অমর ছাপ রেখে যান। একই বছরে কর্ম ও জানবাজ হিট হয়। ১৯৮৭ সালের মিস্টার ইন্ডিয়া চলচ্চিত্রে সাংবাদিক সীমা চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও আইকনিক।
তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য ছবি— চাঁদনী, চালবাজ, লমহে, গুমরাহ, জুদাই, এবং ১৫ বছরের বিরতির পর ইংলিশ ভিংলিশ (২০১২) যা আবারো তাঁর নায়কোচিত প্রত্যাবর্তনের প্রমাণ দেয়।
সম্মাননা ও স্বীকৃতি
* ২০১৩ সালে ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মশ্রী পুরস্কার
* তামিল নাড়ু, অন্ধ্র প্রদেশ ও কেরালার সরকার প্রদত্ত সম্মাননা
* সিএনএন-আইবিএনের জরিপে “১০০ বছরে ভারতের সেরা অভিনেত্রী” নির্বাচিত (২০১৩)
অকাল প্রয়াণ
২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে, হঠাৎ দুর্ঘটনাজনিতভাবে বাথটাবে ডুবে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
শ্রীদেবী চিরকাল স্মরণীয় থাকবেন তাঁর অনবদ্য অভিনয়শৈলী, সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রে অমূল্য অবদানের জন্য। শ্রদ্ধাঞ্জলি এক কিংবদন্তিকে।