সুনিধি চৌহান (জন্ম নাম নিধি চৌহান) ১৯৮৩ সালের ১৪ আগস্ট ভারতের নতুন দিল্লিতে একটি রাজপুত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা দুশ্যন্ত কুমার চৌহান উত্তর প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শ্রীরাম ভারতীয় কলা কেন্দ্রে মঞ্চ নাটকের সাথে জড়িত। তার মাতা একজন গৃহিণী, যিনি সুনিধিকে সঙ্গীত জীবন শুরু করার অনুপ্রেরণা যোগান। তার এক ছোট বোন রয়েছে। চৌহান চার বছর বয়স থেকেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ও স্থানীয় অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন শুরু করেন। এই সময়ে তিনি সরাসরি অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করতেন এবং জনপ্রিয় গানের ক্যাসেট ও সিডি শোনে নিয়মিত গানের তালিম করতেন।
সুনিধি চৌহান মাত্র চার বছর বয়সে স্থানীয় অনুষ্ঠানে গান গাওয়া শুরু করেন এবং ১৩ বছর বয়সে শস্ত্র (১৯৯৬) চলচ্চিত্রে গানের মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু হয়।
তিনি কন্নড়, তামিল, তেলুগু, মারাঠি, মালায়ালম, ওড়িয়া, বাংলা, অসমীয়া, নেপালি, উর্দু ও ইংরেজি মিলিয়ে ৩,০০০+ গান রেকর্ড করেছেন—যা তাকে ভারতের অন্যতম সর্বাধিক রেকর্ডধারী শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
একই সময়ে সুনিধি চৌহান মেরি আওয়াজ সুনো গানের অনুষ্ঠানে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং মস্ত (১৯৯৯) চলচ্চিত্রের "রুকি রুকি সি জিন্দগি" গান দিয়ে প্রচুর খ্যাতি অর্জন করেন।
এই গানের জন্য তিনি নতুন সঙ্গীত প্রতিভা বিভাগে ফিল্মফেয়ার আর. ডি. বর্মণ পুরস্কার অর্জন করেন এবং শ্রেষ্ঠ নারী নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।
তার দ্বিতীয় আলোচিত সাফল্য আসে ২০০০ সালের ফিজা চলচ্চিত্রের "মেহবুব মেরে" গান দিয়ে, যার জন্য তিনি আরেকটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।
সুনিধি চৌহান ধুম (২০০৪) চলচ্চিত্রের "দুম মচালে" গানের জন্য তার তৃতীয় ফিল্মফেয়ারের মনোনয়ন লাভ করেন এবং পরের বছরের পরিণীতা চলচ্চিত্রের "ক্যায়সি পহেলি" ও দস চলচ্চিত্রের "দিদার দে" গানের জন্য আরও দুটি মনোনয়ন লাভ করেন।
২০০৬ সালে ওমকারা চলচ্চিত্রের "বিড়ি" গানের জন্য তিনি তার প্রথম ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন এবং অক্সর চলচ্চিত্রের "সোনিয়ে" ও থার্টি সিক্স চায়না টাউন চলচ্চিত্রের "আশিকি মেঁ" গানের জন্য আরও দুটি মনোনয়ন লাভ করেন সুনিধি চৌহান।
পরের বছর চৌহানের আজা নাচলে-এর শিরোনাম গান ও হানিমুন ট্রাভেলস প্রাইভেট লিমিটেড-এর "সাজনাজি বারি" গান দুটি সুপার ডুপার হিট ও প্রচুর সমাদৃত হয় এবং ব্যবসায়িকভাবেও সফল হয়।
সুনিধি চৌহান রব নে বনা দি জোড়ি (২০০৮) চলচ্চিত্রের "ডান্স পে চান্স" এবং লাভ আজ কাল (২০০৯) চলচ্চিত্রের "চোর বাজারি" গানের জন্য যথাক্রমে তার ১১তম ও ১২তম ফিল্মফেয়ারের মনোনয়ন লাভ করেন।
২০১০ সালে তিনি" তিস মার খাঁন" চলচ্চিত্রের আইটেম গান "শিলা কি জওয়ানি"-এর জন্য তার দ্বিতীয় ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন এবং গুজারিশ চলচ্চিত্রের "উড়ি" গানের জন্য আরেকটি মনোনয়ন লাভ করেন সুনিধি চৌহান।
এই বছরে এনরিকে ইগলেসিয়াসের সাথে "হার্টবিট" গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে সুনিধি চৌহান এরআন্তর্জাতিক সঙ্গীতাঙ্গনে অভিষেক ঘটে।
নেপথ্য সঙ্গীতের বাইরে সুনিধি চৌহানকে কয়েকটি টেলিভিশন আপাতবাস্তব অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে এবং মিউজিক ভিডিওতে দেখা গেছে।
শুধু নেপথ্য গানেই নয়, সুনিধি ছিলেন বিভিন্ন রিয়্যালিটি শো-র জনপ্রিয় বিচারক। সঙ্গীতের বাইরে তিনি বিভিন্ন দাতব্য ও সামাজিক কার্যক্রম-এ সক্রিয়, এবং ২০১২-২০১৫ পর্যন্ত ফোর্বস ইন্ডিয়া টপ 100 সেলিব্রিটি তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ২০০২ সালে ১৮ বছর বয়সে চৌহান গোপনে এক ব্যক্তিগত আয়োজনে নৃত্য পরিচালক ববি খানকে বিয়ে করেন। কিন্তু এক বছর পরই সুনিধি ও ববি আলাদা হয়ে যান এবং বিচ্ছেদের মামলা করেন।
পরবর্তীকালে, সঙ্গীত পরিচালক হিতেশ সনিকের সাথে চৌহানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই বছর পর তারা ২০১২ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির ঘরে তেগ নামে এক পুত্র সন্তান আছে।
আজ, এই অসাধারণ প্রতিভাধর শিল্পীর জন্মদিনে জানাই শুভ কামনা ও অভিনন্দন।
তোমার সুর যেন চিরকাল হৃদয়ে বেজে ওঠে, সঙ্গীতের আকাশে তুমি থেকো উজ্জ্বল তারার মতো।