মোঃ-মাহ্ফুজুল হক খান (জিকু) কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো:-জাহিদুল আলম ওরফে জাহাঙ্গীর (৫৬) হত্যা মামলায় ৩৫ দিন পর বিভিন্ন কৌশলে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ-ইমরান হোসেন ওরফে নৌশাদ"কে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ২১ আগস্ট রাতে মিঠামইন বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মনোয়ার মোহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিএনপি নেতা মো,জাহিদুল আলম হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে ২১ আগস্ট রাতে ইমরান হোসেন কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও জানান,এ ঘটনায় যুবদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন'সহ এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রিমান্ডে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনায় আরও কয়েকজনের জড়িত থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য,গত ১৫ জুলাই রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন সদর বাজার এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের ওপর চাপাতি নিয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এলোপাতাড়ি কোপে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ১৮ জুলাই নিহত জাহিদুলের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয়) ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যাকান্ডের সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে মো. হেলাল (২৫) নামে একজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মহিন উদ্দিন (৩৩) ও মো.শাহিন আলম (২৭) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে,গ্রেপ্তার তিনজনই ভাড়াটে খুনি। জাহিদুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে তাদের কয়েক দিন আগে মিঠামইনে আনা হয়েছিল। পুলিশের দাবি,ভাড়াটে খুনিদের একজন হত্যাকারে সঙ্গে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন ওরফে খোকার জড়িত থাকার কথা জানিয়েছে। এরপর থেকে মোকাররম আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এসে তিনি একাধিকবার এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন। নিহতের স্বজনরা মোকাররম হোসেনকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। নিহতের ছোট ভাই মো. আলমগীর শিকদার বলেন,আমার ভাইকে নৃশংসভাবে যারা হত্যা করেছে এবং এ হত্যাকান্ডের পেছনে মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, দলমত বুঝি না,নৃশংস এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় যেই জড়িত থাকুক,তাকেই গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করা হোক। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন,বিএনপি নেতা হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা'সহ জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।