চলচ্চিত্রকার দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। চার দশকের বেশি ক্যারিয়ারে তিনি ৮৮টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন, যা বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে কোনো একক পরিচালকের সর্বাধিক চলচ্চিত্র পরিচালনা এবং সাড়ে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখেছেন। আজ এ বহুমুখী প্রতিভাধর মানুষটির জন্মদিন।
নির্মাণের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের বিভিন্ন শাখায় ঝন্টু বিচরণ করেছেন। স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। বীর মুক্তিযোদ্ধা তিনি। আজকের এই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু বলেন, ‘জন্মদিন মানে বয়স বেড়ে গেল। জীবন থেকে আরেকটি বছর হারালাম। মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। জন্মদিন এলেই আমার এমনটা মনে হয়। আবার সবাই যখন শুভেচ্ছা জানায়, তখন ভালো লাগে। বিশেষ করে এমন অনেকেই ফোন করে, যাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন দেখা নেই, তবে সুখস্মৃতি আছে অনেক।’
স্মৃতিচারণ করে এ নির্মাতা বলেন, ‘শুটিংয়ের সময়ের জন্মদিনগুলোর কথা সব সময় মনে হয়। এমনও হয়েছে কাজের চাপে নিজের জন্মদিন ভুলে গেছি। তবে ইউনিটের সবাই মিলে কেক এনে আমার জন্মদিন পালন করেছে। এমনটা আমার জীবনে অনেকবারই হয়েছে। সে সময়ের কথা মনে হলে ভালো লাগে। সেই দিনগুলো অনেক মিস করি।’
‘লিডার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ করেন ঝন্টু, এটি প্রযোজনাও করেন তিনি। তাঁর পরিচালিত মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ‘বন্দুক’ মুক্তি পায় ১৯৭৮ সালে। ‘গরিবের রাজা’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তাঁর সর্বশেষ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আকাশ মহল’, যা ২০১৯ সালে মুক্তি পায়।
বাংলাদেশের ছবির ‘টাইটেলে’ সর্বোচ্চ পদবী ব্যাবহারের ইতিহাস রয়েছে তাঁর। কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ রচয়িতা, পরিচালক, গীতিকার, সুরকার, প্রযোজক, চিত্রগ্রাহক, চলচ্চিত্র সম্পাদক, সংগীত পরিচালক সহ আরও কয়েক শাখায় কাজ করেছেন তিনি।
যখন তিনি কেবলই কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখতেন, তখনই তিনি তারকা খ্যাতি পেয়ে গেছিলেন। ছবির পোস্টার, ব্যানার এবং বিজ্ঞাপনে পরিচালক কিংবা প্রযোজকের চেয়ে ‘দেলোয়ার জাহান ঝন্টু’ নামটির প্রাধান্য বা গুরুত্ব দেয়া হতো বেশি। দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর লিখা কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ নিয়ে মোট কতো সংখ্যক ছবি নির্মিত হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না।
তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি’র সভাপতি হিসেবেও। শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। চ্যানেল আই চলচ্চিত্র মেলায় পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা।
ঝন্টু পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র—‘শিমুল পারুল’, ‘প্রেমগীত’, ‘হারানো প্রেম’, ‘ঝিনুকমালার প্রেম’, ‘বউমা’, ‘সকাল-সন্ধ্যা’, ‘পালকি’, ‘জজ ব্যারিস্টার’, ‘মুজাহিদ’, ‘হাতি আমার সাথী’, ‘কন্যাদান’, ‘রূপসী নাগিন’, ‘নাচে নাগিন’, ‘রূপের রানী গানের রাজা’, ‘বিষে ভরা নাগিন’, ‘হেডমাস্টার’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’ প্রভৃতি।