সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সদস্য এসআই আলতাফ হোসেনকে সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার রাত ৮টার দিকে আমিনবাজারের বড়দেশী পশ্চিমপাড়া দাঁতনার মাঠ এলাকায় ঘটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
নিহত এসআই আলতাফ হোসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখা—স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সদস্য ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় আলতাফ হোসেনের প্রায় পাঁচ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমিতে একটি গেঞ্জি কারখানা রয়েছে। শনিবার রাতে তিনি নিজস্ব জমির ওই কারখানা এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
এ সময় একটি দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশার পাশে প্রাইভেটকারে করে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে আলতাফ হোসেনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি নিজের পুলিশ সদস্য পরিচয় দেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, পরিচয় দেওয়ার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বরং প্রাইভেটকারে থাকা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে গিয়ে কিছুক্ষণ পর আরও ১০ থেকে ১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে আসেন।
এরপর সংঘবদ্ধ দলটি আলতাফ হোসেনকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীদের নির্মম মারধরে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে হামলাকারীরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয়রা দ্রুত আলতাফ হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাকে সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যার এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে অভিযান চালায়।
পুলিশের অভিযানে হত্যা মামলার প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এবং হামলায় অংশ নেওয়া অন্যদের পরিচয় উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন,
“আমিনবাজার এলাকায় এক এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাকিবুল হাসান হৃদয়।
সাভার প্রতিনিধি
