ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মার্কিন শান্তি আলোচনাকারী দুই দূত কিয়েভ সফর শেষ করার পর মঙ্গলবার ভোরে এই হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, হামলায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ধরে যায়। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি পাঁচতলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ও একটি তিনতলা আবাসিক ভবনেও আগুন লাগে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় অন্তত ১৪টি বহুতল ভবন, একটি ছাত্রাবাস, একটি স্কুল, একটি ক্লিনিক, গুদামসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার রোববার কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে তারা মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। দুই দূতের সফরের উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া।
মস্কো সফরের পর কিয়েভে যাওয়ার আগে পুতিন তিন দিনের জন্য কিয়েভে হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে ক্রেমলিন জানিয়েছিল। দূতেরা কিয়েভ ছাড়ার পর সেই বিরতি শেষ হয় এবং রাশিয়া আবার হামলা শুরু করে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা অভিযোগ করেছেন, মার্কিন শান্তি দূতেরা চলে যাওয়ার পরই পুতিন আবার কিয়েভে ব্যাপক হামলা চালিয়েছেন। তিনি রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি ইউক্রেনকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার আহ্বান জানান।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য জানিয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় সামরিক ও সরবরাহসংক্রান্ত স্থাপনা। কৃষ্ণসাগরের বন্দরনগরী চর্নোমোরস্কেও হামলা চালানো হয়েছে বলে রুশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
এদিকে কিয়েভে হামলার সময় প্রতিবেশী পোল্যান্ডও সতর্কতামূলকভাবে বিমান প্রতিরক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। দেশটির লুবলিন বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনার বিষয়ে ক্রেমলিন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে এর সময় বা স্থান নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
