কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের বেড়বাড়াদী গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার অভিযোগ উঠেছে মহির উদ্দিন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দফায় দফায় হামলার ঘটনায় অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বেড়বাড়াদী গ্রামের এক সিঙ্গাপুরপ্রবাসীর কাছে দীর্ঘদিন ধরে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন মহির উদ্দিন ও তার সহযোগীরা। সম্প্রতি জহির উদ্দিন, ওয়াহেদসহ কয়েকজন গ্রামবাসী ওই চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করেন। এর জের ধরে গত শুক্রবার মহির উদ্দিনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা জহির উদ্দিন ও ওয়াহেদের বসতবাড়িসহ পরপর তিনটি বাড়িতে ভাঙচুর ও তছনছ চালায়। এ সময় হামলাকারীদের মধ্যে মনা, ইমরান, ওয়াসিম, সাব্বির, নয়ন, জায়েদ, নীলা ও ইমনসহ কয়েকজন ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
হামলায় আহত জহির উদ্দিনের অভিযোগ, হঠাৎ করে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
অপর ভুক্তভোগী ওয়াহেদ অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাদের মারধর করে আহত করার পাশাপাশি বাড়িতে লুটপাট চালায়। তার দাবি, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মহির উদ্দিন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হামলা, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন।
এদিকে স্থানীয়দের কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজে কয়েকজন ব্যক্তির হাতে দেশীয় অস্ত্রসদৃশ সামগ্রী দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা, সময় ও সেখানে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর থেকে বেড়বাড়াদী গ্রামে উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে হামলা, চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মীর রকিবুল ইসলাম
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
