মঞ্চ, টেলিভিশন ও সিনেমায় যিনি ছিলেন এক নির্ভরতার নাম — সেই শক্তিমান অভিনেতা কে এস ফিরোজ আমাদের মাঝ থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন, রেখে গেছেন তাঁর অনবদ্য অভিনয় আর মুগ্ধতার আবেশ।
পুরান ঢাকার লালবাগে ১৯৪৭ সালের ৭ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন খন্দকার শহীদ উদ্দিন ফিরোজ। তাঁর পিতা এ জে এম সাইদুর রহমান ও মাতা রাবেয়া খাতুন। পৈতৃক নিবাস বরিশালের উজিরপুর উপজেলার মশাং গ্রামে, যেখানে এলাকাবাসী তাঁর পিতাকে “উজির মিয়া” নামে চিনতেন।
শৈশব ও কৈশোর কাটে গ্রামেই। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ কলেজে। কিন্তু তখনো কে জানতো, এ যুবক একদিন পর্দা আর মঞ্চে আলো ছড়াবেন!
১৯৬৭ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সালে মেজর পদে চাকরি থেকে অবসর নেন। এরপর শুরু হয় তাঁর নতুন পরিচয়ের যাত্রা — একজন শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে।
অভিনয়ের সূচনা মঞ্চে। নাট্যসংগঠন ‘থিয়েটার’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে অভিনয় করেন একাধিক নাটকে — যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘সাত ঘাটের কানাকড়ি’, ‘কিং লিয়ার’ এবং ‘রাক্ষসী’।
টেলিভিশনে তাঁর প্রথম কাজ ছিল ‘দীপ তবুও জ্বলে’, যেটি রচনা করেছিলেন শফিউজ্জামান এবং প্রযোজনা করেন জামান আলী খান। এতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন ডলি ইব্রাহীম। পরবর্তী সময়ে তিনি হয়ে ওঠেন টিভি নাটকের পরিচিত মুখ — প্রজ্ঞা, অভিব্যক্তি ও সংলাপের দক্ষ মেলবন্ধনে দর্শক হৃদয়ে গেঁথে থাকেন।
চলচ্চিত্রে তাঁর প্রথম কাজ ‘লাওয়ারিশ’ হলেও তিনি বেছে বেছে অভিনয় করেছেন।
উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে:
- শঙ্খনাদ, বাঁশি (আবু সাইয়ীদ)
- চন্দ্রগ্রহণ, বৃহন্নলা (মুরাদ পারভেজ)
ব্যক্তিজীবনে ১৯৭৪ সালের ১ নভেম্বর তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মাধবীর সঙ্গে। তাঁদের তিন কন্যা — নাদিয়া, সাদিয়া ও রাবেয়া জাহান ফিরোজ।
২০২০ সালের আগস্টে তিনি করোনায় আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুটি স্ট্রোকের শিকার হন। দ্বিতীয় স্ট্রোকেই ৯ সেপ্টেম্বর সিএমএইচ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
কে এস ফিরোজ ছিলেন একাধারে সৎ, দৃঢ়চেতা, বিনয়ী ও শুদ্ধ অভিনয়ের প্রতীক। তাঁর চলে যাওয়ায় অপূরণীয় এক শূন্যতা তৈরি হয়েছে আমাদের নাট্যমঞ্চ ও পর্দাজগতে।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা