১৯৭৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা আমির হোসেন। শৈশব কেটেছে খুলনার দাদাবাড়িতে। ছয় ভাইবোনের মধ্যে পপি বড়। পড়াশোনা করেছেন খুলনার মুন্নুজান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে।
লাক্স ফটো সুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে শোবিজে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর উজ্জ্বল পথচলা। ১৯৯৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তাঁর। প্রথম ছবিতেই নায়ক ওমর সানির বিপরীতে অভিনয় করে দারুণ সাড়া ফেলেন তিনি। ছবিটি ব্যবসা সফল হওয়ায় আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।
এরপর একের পর এক হিট সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
‘বিদ্রোহ চারিদিকে’ (রিয়াজের বিপরীতে)
‘কে আমার বাবা’ ও ‘লাল বাদশা’ (মান্নার বিপরীতে) ‘গার্মেন্টস কন্যা’, ‘জীবন যন্ত্রণা’, ‘দুই ভাইয়ের যুদ্ধ’, ‘বিয়ে হলো বাসর হলো না’, ‘শর্টকাটে বড়লোক’, ‘মন খুঁজে বন্ধন’ ইত্যাদি।
শুধু বাণিজ্যিক ছবিই নয়, সমালোচক প্রশংসিত চলচ্চিত্রেও নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি।
‘কারাগার’, ‘মেঘের কোলে রোদ’ ও ‘গঙ্গাযাত্রা’—এই তিনটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে।
এ ছাড়া ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’, ‘সাহসী যোদ্ধা’, ‘যুদ্ধশিশু’, ‘টার্ন’, ‘রানী কুঠির বাকি ইতিহাস’, ‘দরিয়া পাড়ের দৌলতি’ ইত্যাদি ছবিতে অভিনয় তাঁকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে রোমানিয়া বিস্কুটের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হন পপি। করোনাকালে নিজের জন্মদিনের সমস্ত অর্থ অসহায় মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
সাদিকা পারভিন পপি নিঃসন্দেহে ঢালিউডের অন্যতম সম্ভাবনাময়ী এবং সম্মানিত এক অভিনেত্রী। তাঁর অভিনয়, সৌন্দর্য ও মানবিকতা তাঁকে ভক্তদের হৃদয়ে বিশেষ আসনে বসিয়েছে।
আজকের এই বিশেষ দিনে—
তাঁর জন্য রইল অফুরন্ত শুভকামনা ও দীর্ঘায়ু, সুস্থ-সবল ও সফল জীবন কামনা।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা