অভিনেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ, যিনি শুধু সাইফুদ্দিন নামেই চলচ্চিত্র অঙ্গনে অধিক পরিচিত ছিলেন। অভিনয় করেছেন নিয়মিত টেলিভিশন নাটকেও।
অভিনেতা সাইফুদ্দিন (সাইফুদ্দিন আহমেদ) ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে, ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ীতে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ দীন আহমেদ (মঞ্চ অভিনেতা) এবং মাতার নাম মোসামৎ হাসিনা খানম। তাঁরা ছিলেন ৬ ভাই ৬ বোন।
স্কুলে পড়াকালীন সময় থেকেই গান এবং অভিনয়ের প্রতি তাঁর প্রচন্ড আগ্রহ। স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাইতেন। অভিনয়ও করতেন। ভাল গান গাইতে পারতেন তিনি। স্কুল পাস করে ভর্তি হন, রংপুর কারমাইকেল কলেজে। কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে দর্শক-শ্রোতাদের প্রসংশা অর্জন করেন।
পরে ঢাকায় চলে আসেন সাইফুদ্দিন। জানা যায় ঢাকায় এসে রেডিওতে গান গাইতেন এবং ঢাকার বিভিন্ন মঞ্চে অভিনয় করতেন। তখন তিনি একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকরিও করতেন।
সাইফুদ্দিনের ভগ্নিপতি আবদুল জব্বার খান পরিচালিত, ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তিপ্রাপ্ত, এদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র- মুখ ও মুখোশ-এ অভিনয়ের মাধ্যমে সাইফুদ্দিন চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে অভিষেক ঘটে।
তিনি ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত চলচ্চিত্রে নিয়মিত ছিলেন। এসময় তিনি প্রায় চারশো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে মুখ ও মুখোশ, স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা, চাওয়া পাওয়া, আঁকাবাঁকা, ময়নামতি, এতটুকু আশা, নীল আকাশের নীচে, জলছবি, মধু মিলন, বধু বিদায়, আরাধনা, সুন্দরী, শহর থেকে দূরে, শেষ উত্তর, বড় ভাল লোক ছিল, দহন, অভিমান, কুমারী মন প্রভৃতি।
অভিনেতা সাইফুদ্দিন ১৯৭৯ সালে পরিচালক আমজাদ হোসেনের 'সুন্দরী' চলচ্চিত্রে একজন মেথরের চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
ব্যক্তিজীবনে সাইফুদ্দিন আহমেদ ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে, সুফিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। বিবাহিত জীবনে তিন কন্যা ও এক পুত্রের জনক ছিলেন তিনি।
কিংবদন্তী কৌতুক অভিনেতা সাইফুদ্দিন ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ সেপ্টেম্বর, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
বাংলা চলচ্চিত্রের হাস্যরসাত্মক চরিত্রে তিনি ছিলেন অনন্য। তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় আজও দর্শকের মনে ভাস্বর।
মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা এই গুণী শিল্পীর স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা