আল-আমিন হোসেন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহৃত দলিল লেখক শাহ-আলম সরকারকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণকারীরা তাকে স্থানান্তরের সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে সাহসিকতার সঙ্গে লাফ দিয়ে আত্মরক্ষা করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় জনতা ধাওয়া দিয়ে সাবেক এক পুলিশ সদস্য ও সাবেক এক সেনাসদস্যকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
আটককৃতরা হলেন—সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ফুলকোচা গ্রামের আজহারের ছেলে শাহ জামাল (৬০) এবং সয়াদানগড়া গ্রামের শামসুল হকের ছেলে শাহাবুদ্দিন (৬০)।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দলিলের বিষয়ে আলোচনার কথা বলে শাহ-আলম সরকারকে সিরাজগঞ্জে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে সন্ধান চালিয়ে তাকে না পেয়ে বেলকুচি থানায় বিষয়টি জানান।
পরদিন সকালে অপহৃতের ব্যবহৃত ফোন থেকে তার ভাই ফজল সরকারের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। বিষয়টি পুলিশকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
হুমকি উপেক্ষা করে পরিবার দ্রুত বেলকুচি থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে। পুলিশ কল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করলে অপহরণকারীরা বিষয়টি টের পেয়ে যায়। পরে তারা শাহ-আলম সরকারের নিজস্ব মোটরসাইকেলে তাকে মাঝখানে বসিয়ে এবং পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করে।
হাটপাঙ্গাসী বাজারের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় শাহ-আলম সরকার কৌশলে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে লাফ দেন এবং সহায়তার জন্য চিৎকার করেন।
এ সময় স্থানীয় জনতা তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুই অপহরণকারীকে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
উদ্ধারের পর শাহ-আলম সরকারকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি বাড়িতে রয়েছেন। ধৃত দুই অপহরণকারী পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
এ বিষয়ে অপহৃত শাহ-আলম সরকার বলেন, “দলিল করার বিষয়ে আলোচনা করার জন্য আমাকে ফোন করে সিরাজগঞ্জে নিয়ে যায়। সেখানে একটি কক্ষের মধ্যে এই দুই ব্যক্তি আমার হাত-পা বেঁধে মারধর করে। পরে আমার মোবাইল ফোন দিয়ে আমার ভাইয়ের কাছে ফোন করে ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আমার পরিবার প্রশাসনের মাধ্যমে আমাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে অপহরণকারীরা আমার মোটরসাইকেলে আমাকে মাঝখানে বসিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে হাটপাঙ্গাসী এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় আমি মোটরসাইকেল থেকে লাফ দিয়ে স্থানীয় লোকজনের কাছে সাহায্য চাই। তারা আমাকে উদ্ধার করে এবং অপহরণকারীদের আটক করে আইনের হাতে তুলে দেয়।”
বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুজ্জামান বলেন, “এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় তাদের চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”